• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 6 June, 2026

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জার্মানি শিবিরে বড় ধাক্কা, ছিটকে গেলেন বিস্ময়বালক লেনার্ট কার্ল

শিকাগোয় জার্মানির প্রস্তুতি শিবিরে অনুশীলনের সময় বাঁ উরুর পেশীতে গুরুতর চোট পান কার্ল

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ঠিক সেই সময়ই বড় ধাক্কা খেল জার্মানি। চোটের কারণে ১৮ বছর বয়সি মিডফিল্ডার তথা জার্মান ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল তরুণ প্রতিভা লেনার্ট কার্ল বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেলেন। শেষ মুহূর্তে এই খবরে হতাশ জার্মান শিবির। শিকাগোয় জার্মানির প্রস্তুতি শিবিরে অনুশীলনের সময় বাঁ উরুর পেশীতে গুরুতর চোট পান কার্ল। মেডিক্যাল পরীক্ষায় ধরা পড়ে ‘মাসল বান্ডল টিয়ার’ হয়েছে। ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচই নয়, গোটা ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যেতে হচ্ছে তাঁকে।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে কার্ল লেখেন, “আমি কোথা থেকে শুরু করব, সেটাই জানি না। বিশ্বের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে খেলতে না পারার এই যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।” তিনি আরও জানান, বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে যা যা সম্ভব ছিল সবই করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চোট এসে তাঁর স্বপ্ন ভেঙে দিল।

জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান এই ঘটনাকে দলের জন্য বড় ধাক্কা বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, কার্লের সৃজনশীলতা, গতি এবং নির্ভীক মানসিকতা জার্মানির আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। এত অল্প বয়সেই তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছিলেন। তাঁকে না পেলে দলের ক্ষতিই হবে।
গত মরশুমে বেয়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান কার্ল।

ন’টি গোলের পাশাপাশি একাধিক অ্যাসিস্ট করে তিনি ইউরোপের ফুটবলে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেছিলেন। এমনকী, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্নের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ডও গড়েছিলেন এই তরুণ ফুটবলার। বিশ্বকাপের আগে তাঁকে জার্মানির ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হিসেবেই দেখা হচ্ছিল।
কার্লের অনুপস্থিতিতে জার্মান দলে সুযোগ পাচ্ছেন আসান উদ্রাওগো।

২০ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডারকে ইতিমধ্যেই বিকল্প হিসেবে ডেকে পাঠিয়েছে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন। নাগেলসম্যানের বিশ্বাস, এই তরুণ ফুটবলারও সাহসী ফুটবল খেলতে পারবেন এবং দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সক্ষম হবেন।২০১৪-র পর থেকে আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি জার্মানি। বরং ২০১৮ ও ২০২২— পরপর দুই বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

তাই ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে জার্মানির প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। সেই প্রেক্ষাপটে কার্লের মতো উদীয়মান তারকার ছিটকে যাওয়া নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা।
তবে শুধুমাত্র আবেগের জায়গা থেকে নয়, কৌশলগত দিক থেকেও এই চোট জার্মানির জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে কার্ল এমন ফর্মে ছিলেন যে বিশ্বকাপের প্রথম একাদশেও তাঁর জায়গা হতে পারে বলে আলোচনা চলছিল।

তরুণ বয়স সত্ত্বেও বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর ক্ষমতা তিনি দেখিয়েছেন।  বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাই জার্মানির পরিকল্পনায় বড়সড় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। এখন দেখার, কার্লের অনুপস্থিতির ধাক্কা সামলে নাগেলসম্যানের দল কতটা দ্রুত নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়। কারণ বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এক মুহূর্তের ভুলও অনেক সময় স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।