দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পে গতি আনতে বড় উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যে শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রাজ্যের রেল পরিকাঠামো উন্নয়ন, মেট্রো প্রকল্প, রেল ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস, সেতু নির্মাণ এবং স্টেশন আধুনিকীকরণ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এই বৈঠকে রাজ্যের বিধায়ক ও সাংসদদেরও উপস্থিত থাকার কথা। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার রেল সংক্রান্ত সমস্যা এবং দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া সরাসরি রেলমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরবেন। সেই ভিত্তিতেই আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
গত দেড় দশকে জমি অধিগ্রহণের জটিলতা, প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাব এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের বহু রেল প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলেছে অথবা সম্পূর্ণ থমকে রয়েছে। এবার সেই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে দুই সরকার। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকায় বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বৈঠকে পূর্ব রেল, দক্ষিণ-পূর্ব রেল, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল এবং কলকাতা মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। একাধিক প্রকল্পের জন্য জমি হস্তান্তর নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
এরই মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের কাজে গতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ২০ একর সরকারি জমি হস্তান্তরের প্রস্তাবে সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৫০টিরও বেশি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্যও জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে শতাধিক রেল প্রকল্প জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আটকে রয়েছে। এছাড়া বহু রেল ওভারব্রিজ, সেতু, আন্ডারপাস এবং স্টেশন উন্নয়নের কাজও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। শনিবারের বৈঠকে এই সমস্ত প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সূত্রের খবর, যাত্রী পরিষেবা উন্নয়নের পাশাপাশি পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হবে। ডানকুনি-সুরাত ফ্রেট করিডর প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি কলকাতা ও শহরতলির চলমান মেট্রো প্রকল্পগুলির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে।
ফলে বাংলার রেল পরিকাঠামোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নবান্নের এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।




