• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 5 June, 2026

তৃণমূলে বাড়ছে অস্বস্তি, মমতার ব্যর্থতা নিয়ে সরব কাকলি

শুক্রবার সমাজমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে কাকলি দাবি করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে মানুষের রায় আসলে সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধেই গিয়েছে

বিধানসভার পরিষদীয় দলে ভাঙনের জল্পনা এখনও থামেনি। তার মধ্যেই এবার লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই আবহে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

শুক্রবার সমাজমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে কাকলি দাবি করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে মানুষের রায় আসলে সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধেই গিয়েছে। তিনি লেখেন, ‘রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা একজন চার বারের সাংসদ, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থেকে চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তিনি শুধুই নিজের কথা ভাবেন বলে মনে হয়? আসলে আমজনতা সরকারের নীতি, ব্যর্থতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। মানুষের সেই রায়কে সম্মান করতেই হবে।’

কয়েক দিন আগেই ধর্মতলায় ধর্নামঞ্চ থেকে নাম না করে কাকলিকে নিশানা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, তাঁর পুত্রকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী না করায় কাকলি অসন্তুষ্ট হয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, মমতার সেই মন্তব্যেরই জবাব দিয়েছেন কাকলি।

নিজের পোস্টে স্কটিশ কবি চার্লস ম্যাকায়ের কবিতার কয়েকটি লাইনও উদ্ধৃত করেন কাকলি। যার মূল কথা হল, বিভিন্ন কাজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকলে, না চাইতেও অনেক শত্রু তৈরি হয়ে যায়। যদি দেখা যায়, কারও কোনও শত্রু নেই, তবে বুঝতে হবে তিনি কাজ করেন না। শত্রু তৈরি হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে কাকলি এদিন মমতাকেই ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কাকলি। তবে সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই দলের সঙ্গে কাকলির দূরত্ব তৈরি হয়।

বেসুরো কথাবার্তা বলতে থাকেন কাকলি। লোকসভায় পদ হারানোর পরই কাকলি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন ‘চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’ কাকলির ওই পোস্ট দলীয় অন্দরে যথেষ্ট আলোড়ন ফেলেছিল। এর মধ্যেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ মতভেদ নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কাকলির সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই অস্বস্তিকেই আরও প্রকট করে তুলল।