সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে ফের পেশ হতে চলেছে বহুচর্চিত ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ’ বা ডিলিমিটেশন বিল। চলতি বছরের বাজেট অধিবেশনে প্রয়োজনীয় সমর্থনের অভাবে এই বিল পাস করাতে পারেনি নরেন্দ্র মোদী সরকার। সূত্রের খবর, সেই বিলকেই নতুন করে সংসদে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিল পাস করানোর লক্ষ্যে বিরোধী শিবিরের একাধিক দলের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন বিক্ষুব্ধ সাংসদ ডিলিমিটেশন বিলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। ফলে এই বিল ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
পাশাপাশি দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি ডিএমকের অবস্থান নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে ডিএমকের অবস্থানও পরিবর্তন হতে পারে। দক্ষিণী রাজনীতিতে জল্পনা চলছে, মোদী সরকারের এই উদ্যোগে নরম মনোভাবও নিতে পারে ডিএমকে।
উল্লেখ্য, ২০২৬-এর এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বাজেট অধিবেশনে সরকার ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল-২০২৬’ এবং ‘সংবিধান (১৩১তম) সংশোধনী বিল-২০২৬’ লোকসভায় পেশ করেছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় তা ওই দুই বিল পাস হয়নি। সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এই ধরনের বিল পাশ করাতে লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনুমান, ডিলিমিটেশন বিল দেশের নির্বাচনী মানচিত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিলটি সংসদে তোলার আগে সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করবে।
যদিও মন্ত্রীপরিষদের সংসদীয় বিষয়ক কমিটি বর্ষাকালীন অধিবেশনের নির্দিষ্ট সূচি এখনও ঘোষণা করেনি। তবে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে অধিবেশন শুরু হতে পারে। এই অধিবেশন প্রায় তিন সপ্তাহ চলে। ডিলিমিটেশন বিলকে ঘিরে সেই অধিবেশনই জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




