রাজ্যের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব এবার পৌঁছে গিয়েছে দেশের রাজধানীতেও। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ও সংসদীয় স্তরে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তি ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। দলের অন্দরে মতবিরোধ ও নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষের আবহে সংসদীয় দলে ভাঙনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা জোরালো হয়েছে। এই পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।
দলীয় সূত্রের দাবি, লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় নেতৃত্ব নিয়ে একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কয়েকজন সাংসদের সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্ব বাড়ছে বলেও অভিযোগ। একই সঙ্গে সাংসদদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসায় অস্বস্তি আরও বেড়েছে। সম্প্রতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি লোকসভার স্পিকারের কাছেও পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, চিফ হুইপের ভূমিকা নিয়ে অন্য সাংসদরাও কি একই ধরনের অবস্থান নেবেন?
অন্যদিকে, বিধানসভার অন্দরেও রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। বিরোধী শিবিরে নতুন নেতৃত্বের উত্থান এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে ধারাবাহিক আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর জেরে লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের একাংশের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের সম্ভাব্য কয়েকটি সাংবিধানিক ও আইনগত পদক্ষেপ নিয়েও তৃণমূলের অন্দরে উদ্বেগ বাড়ছে। ‘ডিলিমিটেশন’ বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত বিল এবং ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে তৃণমূল। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
সূত্রের খবর, আগামী ৮ জুন দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিশিষ্ট আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং আদালতের ব্যাখ্যার উপর। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও এনসিপি-সংক্রান্ত মামলার নজিরও এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




