তামিলনাড়ু বিজেপির অন্যতম মুখ এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাই অবশেষে দল থেকে ইস্তফা দিলেন। সূত্রের খবর, তিনি ইতিমধ্যেই বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে দলীয়ভাবে তাঁর ইস্তফা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের চর্চায় উঠে আসছে, বিজেপি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে এবার নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারেন আন্নামালাই।
আন্নামালাই ও বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্ক গত কয়েক মাস ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, রাজ্য রাজনীতিতে কৌশলগত নানা সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে এআইএডিএমকের সঙ্গে জোট নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ ক্রমশ বাড়ছিল।এর পাশাপাশি সিবিএসইর তিন ভাষা নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি তামিল অস্মিতার পক্ষেও তাঁর জোরালো অবস্থান তাঁকে দলের কেন্দ্রীয় কৌশলের বিপক্ষে নিয়ে যায়। এই ধারাবাহিক মতবিরোধের কারণেই পরে তাঁকে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দল তাঁকে মনোনীতও করেনি।
সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব আন্নামালাইকে দলে ধরে রাখার জন্য একাধিকবার আলোচনা করে। তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা যাচ্ছে। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেও শেষ রক্ষা হয়নি। আন্নামালাই নাকি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তিনি ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ বিচ্ছেদ’ চান।
এখন সবচেয়ে বড় জল্পনা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, আন্নামালাই বিজেপি ছেড়ে নতুন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যার লক্ষ্য হবে তামিলনাড়ুর ভোটব্যাঙ্কে স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে উঠে আসা। তিনি নিজে এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
আন্নামালাইকে তামিলনাড়ু বিজেপির সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ হিসেবে দেখা হত। প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হিসেবে প্রশাসনিক পরিচিতি এবং পরে সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দ্রুতই দলের ‘পোস্টারবয়’ হয়ে ওঠেন। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল বিজেপির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে কোয়েম্বাটুর আসনে নিজেই পরাজিত হন আন্নামালাই, যা দলের ভিতরে তাঁর অবস্থান আরও দুর্বল করে দেয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। এই পরিস্থিতিতে আন্নামালাই যদি নতুন দল গঠন করেন, তবে তা শুধু বিজেপির জন্য নয়, ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।




