অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এবার সেই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হতে চলেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কাল আমরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ট্রান্সফার করব। যারা ফর্মফিলাপ করে দিয়েছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টে কাল থেকেই টাকা পৌঁছতে শুরু করবে। আমরা যা বলি, ভেবেচিন্তে বলি। আর যা বলি, তা করেও দেখাই।’ তিনি আরও জানান, সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সফল করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তবে কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র যোগ্য ও বৈধ নাগরিকরাই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন, ‘যারা অনুপ্রবেশকারী, তারা এই টাকা পাবে না। যারা দেশের আইন ভেঙেছে, তারা পাবে না।’ একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, কিছু এলাকায় এমন পরিবার রয়েছে যাদের সন্তানরা নিয়মিত স্কুলে যায় না কিংবা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেয় না। এমন ক্ষেত্রেও সরকারি নিয়ম মেনে যাচাই-বাছাই করা হবে।
সাক্ষাৎকারে শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার প্রথা চালু করা হয়েছে। তাঁর মতে, জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেমের মূল্যবোধ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়া বর্তমান তাপপ্রবাহ পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তীব্র গরমের কারণে স্কুলগুলিকে প্রয়োজন হলে সকালবেলার শিফটে ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গরম এখন অনেক বেশি। তাই স্কুলগুলিকে বলা হয়েছে, চাইলে সকালে ক্লাস করতে পারে। এতে কোনও অসুবিধা নেই।’
জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় চেতনার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম্ বলতে হবে, জনগণমন গাইতে হবে এবং ২৬ জানুয়ারি ও ১৫ অগাস্টকে সম্মান জানাতে হবে।’ তাঁর দাবি, এগুলি ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সেই মূল্যবোধকে সম্মান করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ বিতরণ শুরু হওয়ার ঘোষণার পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং নাগরিক দায়িত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।




