• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 2 June, 2026

ভারত–ওমান নতুন বাণিজ্য যুগের সূচনা, ওমানের বাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারীদের প্রায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার

চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিনই মুম্বাই, কলকাতা ও চেন্নাই থেকে কৃষিপণ্য, রত্ন ও গয়না-সহ বিভিন্ন পণ্যের প্রায় ১০টি চালান ওমানের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে

ছবি: আইএএনএস থেকে নেওয়া

ওমানের সঙ্গে ভারতের আর্থিক চুক্তি কার্যকর হয়েছে সোমবার থেকে। কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট বা সিইপিএ কার্যকর করতে বহু দিন ধরেই অপেক্ষায় ছিল ভারত। এই চুক্তির ফলে ওমানের বাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারীদের প্রায় সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার মিলবে। এই সুযোগ দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মাস্কাট সফরের সময় এই চুক্তিতে দুই দেশ স্বাক্ষর করেছিল।
সোমবার সিইপিএ কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি একে ভারতের অর্থনীতির জন্য একটি ‘যুগান্তকারী মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী, কারিগর, মহিলা, কৃষক, মৎস্যজীবী এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য নতুন বাজার উন্মুক্ত হবে, বৃদ্ধি পাবে রপ্তানি। এছাড়াও বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
চুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধে হলো, ভারতের প্রায় ৯৯ শতাংশ রপ্তানি পণ্যের ওপর ওমানে শুল্ক প্রায় শূন্যের ঘরে। এর আওতায় রয়েছে পোশাক, চর্মজাত পণ্য, ওষুধ, প্লাস্টিক, অটোমোবাইল সামগ্রী-সহ বহু শ্রমনির্ভর শিল্প। অন্যদিকে ভারতও ওমান থেকে আসা জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সার জাতীয় পণ্যে শুল্ক হ্রাস বা শূন্য করার পথে এগোবে।সরকারের মতে, এই ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক কাঠামো দুই দেশের মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য ক্ষেত্রকেও সরাসরি লাভবান করবে।

এই চুক্তির সবচেয়ে ইতিবাচক দিকগুলোর একটি হলো এর আঞ্চলিক প্রভাব। পশ্চিমবঙ্গের বহু পণ্য এখন নতুন বাজারে আরও সহজে পৌঁছাতে পারবে। বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারে দার্জিলিং চা, কলকাতার চর্মজাত পণ্য, হাওড়ার ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী, মালদহের আম, পাটজাত পণ্য, হ্যান্ডলুম ও হস্তশিল্প, প্রক্রিয়াজাত সামুদ্রিক খাদ্য। ফলে রাজ্যের ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষিনির্ভর উৎপাদন সরাসরি লাভবান হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে চাপের কারণে হরমুজ প্রণালীতে পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য ওমান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বা জিটিআরআইয়ের মতে, ওমানের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে দেশটির একাধিক বন্দর, যেমন সালালাহ ও দুকুম—হরমুজ প্রণালীর বাইরে অবস্থিত। ফলে সঙ্কটে ঘেরা জলপথ এড়িয়ে সরাসরি আরব সাগর হয়ে বাণিজ্য চালানো সম্ভব হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকেও একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিনই মুম্বাই, কলকাতা ও চেন্নাই থেকে কৃষিপণ্য, রত্ন ও গয়না-সহ বিভিন্ন পণ্যের প্রায় ১০টি চালান ওমানের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।সরকার ও বাণিজ্য মহলের আশা, এই চুক্তির ফলে ভারতের রপ্তানি শিল্প, কৃষিপণ্য, ক্ষুদ্র শিল্প ও কারিগরি উৎপাদন আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে ওমানের বাজারেও ভারতীয় পণ্যের উপস্থিতি বাড়বে যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।