• facebook
  • twitter
Tuesday, 2 June, 2026

শীতে আইপিএল আয়োজনের ভাবনা বোর্ডে

এমন চরম আবহাওয়ায় যাতে আইপিএল না হয়, যাতে আইপিএল-কে আরও আরামদায়ক করে তোলা যায়, সে জন্যই আইপিএল উইন্ডোকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা-চিন্তা চলছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে

প্রতীকী চিত্র

রাজীব ঘোষ: আইপিএল শীতকালে হলে কেমন হয়? সত্যিই এমন হলে নিশ্চয়ই খুশিই হবেন? এপ্রিল-মে-র প্যাচপ্যাচে গরমে ঘেমে চান করে করে ম্যাচ দেখতে বা কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির দাপটে ম্যাচ ভেস্তে গেলে কারই বা ভাল লাগে? তাই শীতকালে আইপিএল হলে নিশ্চয়ই খারাপ হবে না। বরং আরও জমে যাবে বিশ্বসেরা এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ।

রবিবার আমেদাবাদে, যেখানে আইপিএল ফাইনাল হয়, সেখানে দুপুরে তাপমাত্রার পারদ পৌঁছেছিল প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়সে। সন্ধ্যায় যখন খেলা শুরু হয়, তখন তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়সের আশপাশে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫৫ শতাংশ।

Advertisement

এ বারের আইপিএলে বেশিরভাগ ম্যাচেই মাঠের পরিবেশ ছিল এ রকমই। শুধু হিমাচলের শৈলশহর ধরমশালায় যে ম্যাচগুলি হয়, সেগুলিতে আবহাওয়া ছিল আরামদায়ক। কিন্তু বাকি সব স্টেডিয়ামেই সাধারণ দর্শকদের যেমন ঘেমে চান করে খেলা দেখতে হয়েছে, তেমনই ক্রিকেটারদেরও গরমে কাহিল হয়ে ম্যাচ খেলতে হয়েছে। তুমুল গরম ও আর্দ্রতার কারণে একাধিক ক্রিকেটারের পেশীতে টান বা ‘ক্র্যাম্প’ ধরে।

Advertisement

এমন চরম আবহাওয়ায় যাতে আইপিএল না হয়, যাতে আইপিএল-কে আরও আরামদায়ক করে তোলা যায়, সে জন্যই আইপিএল উইন্ডোকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা-চিন্তা চলছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে। বিসিসিআই-এর অন্দরমহলে খোঁজ নিয়ে এমনই জানা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা আইসিসি-র কাছে আইপিএলের জন্য শীতকালের এই উইন্ডো চাওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে তার আগে নিজেদের সর্বসম্মত ভাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতীয় বোর্ডের সদস্যদের।

এমন ভাবনা যে রয়েছে বোর্ডে, তা স্বীকার করে নিয়ে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এক প্রভাবশালী সদস্য সোমবার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’-কে বলেন, “ভাবনা-চিন্তা চলছে ঠিকই। তবে এই নিয়ে বোর্ডে তেমন আলোচনা এখনও হয়নি। এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্পনসর ও সম্প্রচারকারী সংস্থার সঙ্গেও কথা বলতে হবে। ওই সময়ে আইপিএল হলে আমাদের কী কী অসুবিধা হতে পারে, সে সব নিয়ে চর্চা না করে তো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।”

শীতকালে আইপিএলের ম্যাচ করার সবচেয়ে বড় সমস্যা, পাঞ্জাব ও হিমাচলের শহরগুলিতে শীতের রাতে ম্যাচ আয়োজন করা। প্রথমত, এই দুই রাজ্যের শহরগুলিতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়ে ও শিশিরও পড়ে প্রচুর। সেই সমস্যা সমাধানের জন্য অবশ্য এই শহরগুলিতে বিকেলে বা দুপুরে ম্যাচ আয়োজন করা যেতে পারে। তবে এই ব্যাপারে সম্প্রচারকারী সংস্থার সম্মতি প্রয়োজন। এ ছাড়াও আরও সমস্যা আছে। যা শীতে আইপিএল আয়োজনে অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা, আইসিসি ওই সময়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে আইপিএল আয়োজনের অনুমতি দেবে কি না। কারণ, ক্রিকেটবিশ্বে বেশিরভাগ দেশেই শীতের মরশুমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আসর বসে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে প্রায় সব দেশই। তাই ওই সময়ে আইপিএল হলে ক্রিকেটারদের নিয়ে দেশ বনাম ক্লাবের সংঘাত শুরু হতে পারে।

এইসব সমস্যা মিটিয়েও যদি আইপিএল শীতকালে হয়, তাও তা ২০২৭-এ নয়, হতে পারে ২০২৮ মরশুম থেকে। কারণ, ২০২৭-এর মার্চ পর্যন্ত আইসিসি-র দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সূচি চূড়ান্ত হয়ে আছে। আগামী বছর অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ায় ৫০ ওভারের ক্রিকেটের বিশ্বকাপ হবে।

২০২৮ মরশুমে আইপিএলে দল ও ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের। ম্যাচের সংখ্যা বাড়লে সময়ও বেশি লাগবে। সেক্ষত্রে মার্চে শুরু করলে আইপিএল শেষ হতে হতে জুন হয়ে যাবে। অর্থাৎ সারা দেশে তখন বর্ষা শুরু হয়ে যাবে এবং অনেক ম্যাচই বৃষ্টির জন্য ভেস্তে যেতে পারে। তা ছাড়া ক্রিকেটার-কোচেরাও তুমুল গরমে আইপিএলের ম্যাচ খেলে অত্যাধিক ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন, এমন নালিশ জানিয়েছেন।

বিশেষ করে বিদেশী ক্রিকেটাররা। সেই কারণেই আইপিএলকে শীতের আসর করে তোলার ভাবনা শুরু হয়েছে বোর্ডে। শেষ পর্যন্ত এই ভাবনা বাস্তবে পরিণত হয় কি না, তা তো সময়ই বলবে। কিন্তু সত্যিই তা হলে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে আইপিএল দেখার আনন্দ যে দ্বিগুন হয়ে উঠবে, এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Advertisement