৭২ দিনের মাথায় আরজি কর লিফ্ট কাণ্ডে চার্জশিট পেশ করল লালবাজার। সোমবার শিয়ালদহের অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দিল লালবাজারের হোমিসাইড শাখা। এই চার্জশিটে নাম রয়েছে ৫ জনের। লালবাজরের পেশ করা এই ২০০ পাতার চার্জশিটে ঘটনার দিন কী কী ঘটেছিল তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত মার্চ মাসে ঘটা এই ভয়ানক ঘটনায় অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর নেপথ্যে লিফ্টম্যানদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কথা উল্লেখ রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে আরজি কর হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর নিজের স্ত্রী ও আরেক ছেলেকে নিয়ে শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য লিফ্টে ওঠেন তিনি। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লিফ্টটি আটকে যায়। বেশ কিছুক্ষণ লিফ্টের মধ্যেই আটকে পড়েন তাঁরা। এরপর এমন পরিস্থিতিতে লিফ্টের দরজা খুলে গর্তে পড়ে যান অরূপের ছেলে ও স্ত্রী। অন্যদিকে লিফ্টের দরজা ও দেওয়ালের মাঝে পড়ে ঘষা খেয়ে থেঁতলে মৃত্যু হয় অরূপের।
Advertisement
এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিন লিফ্ট কর্মী মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস, মানসকুমার গুহ এবং দুই অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী আশরাফুল রহমান এবং শুভদীপ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলে মৃতের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার জল গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। উঠে এসেছিল নিরাপত্তারক্ষীদের চরম গাফিলতির তথ্যও। জানা গিয়েছিল, ঘটনার সময় যাঁরা লিফ্টের দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা মদ্যপ ছিলেন। তাই চিৎকার করে সাহায্য চাইলেও তাঁরা বুঝতেই পারেননি ওই পরিস্থিতিতে কী করতে হবে।
Advertisement
ঘটনায় অভিযুক্ত দুই নিরাপত্তারক্ষীর আগেই জামিন হয়েছে। তিনজন লিফ্টম্যান এখনও জেল হেফাজতেই রয়েছেন। এদিন তিন লিফ্ট কর্মীকে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার থেকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়। পাশাপাশি সোমবার ঘটনার ৭২ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট পেশ করল লালবাজার।
Advertisement



