রাজ্যের নতুন মন্ত্রীসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গোটা উত্তরবঙ্গ, বিশেষ করে শিলিগুড়িতে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। সোমবার লোকভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোট ৩৫ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকে ১০ জন বিধায়কের জায়গা পাওয়া রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন মন্ত্রীসভায় উত্তরবঙ্গের আট জেলা থেকে ১০ জনের মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন ৪ জন। একজন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে যে বঞ্চনার অভিযোগ ছিল, এই সিদ্ধান্ত তার অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকেই।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি বিধানসভার মধ্যে ৪০ টি আসনে জিতেছে বিজেপি। ২০১৬ সালের বিধানসভা ও ২০২১ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে উত্তরবঙ্গে নিজের ঘাঁটি শক্ত করেছে বিজেপি। এরপর থেকেই বিজেপির শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল উত্তরবঙ্গ। এরই ফলস্বরূপ উত্তরবঙ্গ থেকে ১০ জনকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হল। বাম বা তৃণমূল কংগ্রেসের আমলেও এতজন মন্ত্রী আগে উত্তরবঙ্গ থেকে হয়নি। বাম আমলে অশোক ভট্টাচার্যকে একমাত্র পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছিল। বিগত ১৫ বছরে এই প্রথম উত্তরবঙ্গ থেকে চারজন পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন।
Advertisement
দার্জিলিং জেলার ৫টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। তার মধ্যে দার্জিলিঙে ২ জন মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। কোচবিহার জেলার ৯টি আসনের মধ্যে ৮টিতেই জয়ী হয়েছিল বিজেপি। কোচবিহার থেকেও মন্ত্রী হয়েছেন ২ জন ৷ মালদহ জেলায় ১জন মন্ত্রী হয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার জেলার ৫টি আসনেই জয়লাভ করে বিজেপি।আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন, কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাঁও, কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামা মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন। কিন্তু জলপাইগুড়ি জেলার ৭টি আসনের মধ্যে ৭টিতেই বিজেপি জয়ী হলেও কোনও মন্ত্রী পেল না। মন্ত্রীত্ব পেল না দক্ষিণ দিনাজপুরও ৷

উত্তরবঙ্গ থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙা, কোচবিহার), শঙ্কর ঘোষ (শিলিগুড়ি, দার্জিলিং), মনোজ কুমার ওরাঁও (কুমারগ্রাম, আলিপুরদুয়ার), দীপক বর্মন (ফালাকাটা, আলিপুরদুয়ার)। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আনন্দময় বর্মন (মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, দার্জিলিং) ৷ বিশাল লামা (কালচিনি আলিপুরদুয়ার)। বিরাজ বিশ্বাস (করণদিঘি, উত্তর দিনাজপুর)। কৌশিক চৌধুরী (রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর)। জুয়েল মুর্মু (হবিবপুর, মালদহ)। আবার স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হয়েছেন মালতি রাভা রায় (তুফানগঞ্জ, কোচবিহার)।
Advertisement
রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা নতুন মন্ত্রীসভায় উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় পাহাড়ে উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মনের মন্ত্রী হওয়ায় শিলিগুড়ি জুড়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, ঢাকের তালে নাচ এবং আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়। পানিট্যাঙ্কি মোড় থেকে নকশালবাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় উৎসবের আবহ লক্ষ্য করা গিয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, উত্তরবঙ্গ থেকে এত সংখ্যক প্রতিনিধির মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে। তাঁদের মতে, পরিকাঠামো, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং পর্যটনসহ একাধিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। দলীয় নেতাদের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে এই মন্ত্রীসভায়। ফলে আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেই আশাবাদী রাজনৈতিক মহল।
Advertisement



