• facebook
  • twitter
Sunday, 31 May, 2026

আইপিএল ক্রিকেটে স্বপ্নের ইতিহাস গড়ল বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরু

১৮ ওভারে ৫ উইকেটে হারিয়ে বেঙ্গালুরু ১৬১ রান করে বাজিমাত করল। আসলে বিরাটের বড় রানের অঙ্কের কাছে গুজরাত দাঁড়াতেই পারল না। বিরাটের ব্যাট থেকে এল ৭৫ রান।

আইপিএল ক্রিকেটের এক স্বপ্নের ইতিহাস গড়লেন বিরাট কোহলি ও রজত পাটিদাররা। রবিবার আহমেদাবাদে দর্শকঠাসা স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু চ্যাম্পিয়ন গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে পরপর দু’বার বেঙ্গালুরু খেতাব জয়ের কৃতিত্ব দেখাল। সেই আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন ক্রিকেটাররা এবং ক্রিকেট ভক্তরাও। আসলে স্বপ্নের খেলা দেখার জন্য বিরাটের ব্যাট ঝলসে উঠেছিল। বিরাট মানেই বিরাট কৃতিত্বের একটা উপাখ্যান। সবসময়ই দলের প্রয়োজনে বিরাট ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে জানেন। সেই লক্ষ্যেই বাজিমাত করলেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ৫ উইকেটে গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে নতুন অধ্যায়ে নাম লেখাল। বিরাট কোহলির জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠল সারা স্টেডিয়াম। আলোর ফুলঝুরিতে আহমেদাবাদের আকাশ সেজে উঠল। রাজপথে জয়ের উচ্ছ্বাস। বেঙ্গালুরুর এই জয়ের পিছনে রাজার ভূমিকায় বিরাট কোহলি।

অধিনায়ক রজত পাটিদার টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। বিরাটের সঙ্গে পরার্মশ করেই রজত প্রথমেই ডাফি এবং ভুবনেশ্বরকে দিয়ে আক্রমণ শানাতে থাকেন গুজরাত শিবিরে। প্রথম থেকেই শুভমন গিলরা বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিলেন। সাই সুদর্শন ও শুভমন গিল ওপেন করতে এসে সেই অর্থে ব্যর্থ হন। বোলারদের দাপটে গুজরাত শিবির খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে গুজরাত ১৫৫ রান করে। একমাত্র ওয়াশিংটন সুন্দর গুজরাতের স্কোরবোর্ডকে ভদ্রস্থ জায়গায় নিয়ে যান। তিনি অর্ধ শতরান করে নটআউট থাকেন। তাঁরই দৌলতে গুজরাত কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করে। ভুবনেশ্বর ও রাশিখ সালাম দুরন্ত বল করেন। ভুবনেশ্বর দু’টি ও সালাম তিনটি উইকেট পান। হেজেলউডও দুটো উইকেট পেয়েছেন।

Advertisement

বেঙ্গালুরুকে ১৫৬ রান করলে জিততে হবে, এই লক্ষ্যে তারা মাঠে নামেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও বিরাট কোহলি। পাওয়ার প্লে-তে ভেঙ্কটেশ ও বিরাট বেশ দাপটের সঙ্গে খেলতে থাকেন। বেঙ্গালুরু দলের প্রথম উইকেটটি পড়ে ৬২ রানের মাথায়। আউট হন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। তিনি ১৬ বলে ৩২ রান করেন। মহম্মদ সিরাজের বলে ভেঙ্কটেশ ক্যাচ তুলে দেন রাবাডার হাতে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে কোহলির সঙ্গে জুটি বাঁধেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে রাবাডার বলে দেবদত্ত ক্যাচ তুলে দেন আরশাদ খানের হাতে। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১ রান। দলের রান তখন ৬৩। তৃতীয় উইকেটে বিরাট কোহলির সঙ্গে খেলতে আসেন অধিনায়ক রজত পাটিদার। বিরাট কোহলির ধামাকা ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষ দলের বোলাররা নাস্তানাবুদ হতে থাকেন। কিন্তু দলের সতীর্থরা সেইভাবে বিরাটকে সাপোর্ট দিতে পারছিলেন না। দলের তৃতীয় উইকেটটি পড়ে ৮৯ রানের মাথায়। আউট হন রজত পাটিদার।

Advertisement

বিরাট কোহলি অর্ধ শতরান করেন ২৫ বলে। তার মধ্যে সাতটি বাউন্ডারি ও দু’টি ছক্কা। বেঙ্গালুরু ১০ ওভারে ১০০ রান করে। বিরাট কোহলির সঙ্গে পঞ্চম উইকেট জুটিতে খেলতে আসেন টিম ডেভিড। ডেভিড বেশ স্বচ্ছন্দেই খেলছিলেন। কিন্তু আরশাদ খানের একটি হালকা বলে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে তিনি জস বাটলারের হাতে বন্দি হয়ে যান। ষষ্ঠ খেলতে আসেন কোহিলর পাশে জিতেশ শর্মা। বিরাট কোহলির দুরন্ত ব্যাটিং গুজরাতকে বিধ্বস্ত করল। ১৮ ওভারে ৫ উইকেটে হারিয়ে বেঙ্গালুরু ১৬১ রান করে বাজিমাত করল। আসলে বিরাটের বড় রানের অঙ্কের কাছে গুজরাত দাঁড়াতেই পারল না। বিরাটের ব্যাট থেকে এল ৭৫ রান। খেললেন ৪২টি বল। মেরেছেন ৯টি বাউন্ডারি ও তিনটি ছক্কা। বিরাটের সঙ্গে উইকেটে দাঁড়িয়েছিলেন জিতেশ শর্মা। তিনি করেন ১১ রান। সেই কারণেই বলতে হয় বিরাট ভরসা বলতেই কোহলি। ম্যান অফ দি ম্যাচ হলেন বিরাট কোহলি। এখনও তাঁর ব্যাট যেভাবে কথা বলে তা সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।

অন্যদিকে, কমলা টুপি জিতে নিল কিশোর প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী। বৈবভ ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান করে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কারে সম্মানিত হল।

Advertisement