প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের, মেসিকাণ্ডের জের

‘সত্যের জয়’ সমাজমাধ্যমে লিখলেন শতদ্রু দত্ত

Published by SNS | Kolkata | May 31, 2026 1:00 pm

মেসি কাণ্ডে এবার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। গত বছর ডিসেম্বর মাসে কলকাতা সফরে এসেছিন কিংবদন্তী ফুটবলার লিওনেল মেসি। তাঁর সফর ঘিরে যুবভারতীতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তা নিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে আগেই অভিযোগ দায়ের করেছিলেন আয়োজক শতদ্রু দত্ত।

এবার বিধাননগর থানার তরফে দায়ের করা হল অভিযোগ। এফআইআরের কপি-সহ একটি পোস্ট করে সে কথা জানিয়েছেন শতদ্রু। পোস্টে লিখেছেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।‘ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

অরূপের বিরুদ্ধে পাঁচটি ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সেগুলি হল, অভিন্ন উদ্দেশ্য ৩ (৫), তোলাবাজি ৩০৮ (২), প্রতারণা ৩১৮ (৪), অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন ৩৫১ (২) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ৬১ (২)। গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।  সেই অনুষ্ঠানের আগে আয়োজক শতদ্রুর কাছে প্রচুর টিকিট দাবি করেছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

এমনকী টিকিট না দিলে অনুষ্ঠান বাতিল করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রায় ২২ হাজার ‘কমপ্লিমেন্টারি’ টিকিট অরূপ বিশ্বাস নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন শতদ্রু দত্ত। সেই টিকিটগুলি কালোবাজারি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। মেসির অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে ভিড় তৈরি হয়েছিল, সেখানে ছিলেন উদ্যোক্তা, ছবিশিকারি, নেতা, মন্ত্রী এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠরা। মেসির কায়ে লেপ্টে ছিলেন, অরূপ এমন অভিযোগও করা হয়েছে।

গত ১৯ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাস, আইএএস আধিকারিক শান্তনু বসু, এবং রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শতদ্রু দত্ত। যুবভারতীতে মেসি কাণ্ডের জেরে ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সেই সময় ‘অব্যাহতি’ নিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। প্রভাবশালীরা মাঠে ভিড় করে থাকায় মেসিকে ঠিক করে দেখা যায়নি বলে দর্শকরা অভিযোগ করেছিলেন।

মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের পেটে কনুইয়ের গুঁতো লাগে বলে অভিযোগ ওঠে। রদ্রিগো ডি’পলের হাতে নখের ঘায়ে ছড়ে যায় বলে খবর। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মেসির নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যান। তার পর স্টেডিয়ামে শুরু হয় তাণ্ডব। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দু’টি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছিল। প্রথম মামলায় গ্রেপ্তার হন আয়োজক শতদ্রু দত্ত। দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।