এক সময় বাংলার ফুটবলের প্রাণকেন্দ্র ছিল বাঙালি ফুটবলারদের দাপট। কলকাতা ময়দানের তিন প্রধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন বড় ক্লাবে দেখা মিলত একের পর এক প্রতিভাবান বাঙালি তারকার। সময় বদলেছে, বদলেছে বাংলার ফুটবলের ছবিও। এখন বড় ক্লাবের প্রথম একাদশে বাঙালি ফুটবলার খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এই বাংলাই একসময় ভারতীয় ফুটবলকে উপহার দিয়েছিল অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলার। সেই সাফল্যের নেপথ্যে যাঁদের অবদান ছিল অপরিসীম, তাঁদের অন্যতম ছিলেন প্রবীণ কোচ মুরারি শুর।
শ্যামনগরের এই ফুটবলপ্রেমী মানুষটির হাত ধরেই ভারতীয় ফুটবলের বহু পরিচিত মুখ প্রথমবার মাঠে পা রাখেন। সুব্রত ভট্টাচার্য, প্রশান্ত মিত্র, দুলাল বিশ্বাস, রহিম নবি-সহ বহু ফুটবলারের উত্থানের পিছনে ছিল তাঁর অবদান। দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে তরুণ ফুটবলার তৈরি করে গিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোর তিনটে নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুরারি শুর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলার ফুটবল মহলে।
Advertisement
মুরারি শুর নিজেও ছিলেন একজন দক্ষ ফুটবলার। গোলরক্ষক হিসেবে টালিগঞ্জ অগ্রগামীর জার্সিতে খেলেছেন তিনি। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও নানা প্রতিকূলতার কারণে বড় মাপের ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। তবে সেই অপূর্ণতাকেই তিনি শক্তিতে পরিণত করেছিলেন। নিজের স্বপ্ন ছাত্রদের মধ্যে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে কোচিংকেই জীবনের মূল লক্ষ্য করে নেন।
Advertisement
শুধু ফুটবল নয়, জীবনের এক পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্স কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। পরে সম্পূর্ণভাবে ফুটবল প্রশিক্ষণেই নিজেকে নিয়োজিত করেন। বছরের পর বছর ধরে শ্যামনগর এবং আশপাশের এলাকার অসংখ্য ছেলেকে ফুটবলের পাঠ দিয়েছেন মুরারি শুর। তাঁর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই পরবর্তীকালে কলকাতার বড় ক্লাবে খেলেছেন, কেউ কেউ জাতীয় দলেও সুযোগ পেয়েছেন।
বাংলার ফুটবলে কোচ হিসেবে তাঁর অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রাক্তন ও বর্তমান ফুটবলাররা। মাঠের বাইরে থেকেও তিনি ছিলেন এক নীরব নির্মাতা, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলার ফুটবলকে সমৃদ্ধ করেছেন।
Advertisement



