• facebook
  • twitter
Tuesday, 26 May, 2026

পেট্রল-ডিজেলের পর এ বার সিএনজি, ২ সপ্তাহে চতুর্থবার দাম বাড়ল

মঙ্গলবার ফের কেজি প্রতি ২ টাকা দাম বাড়ল কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সিএনজির

পেট্রল-ডিজেলের পর এবার সিএনজির মূল্যবৃদ্ধি। মঙ্গলবার ফের কেজি প্রতি ২ টাকা দাম বাড়ল কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সিএনজির। নতুন দাম কার্যকর হয়েছে এদিন থেকেই। লাগাতার এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে অটো, ট্যাক্সি ও ছোট গাড়ির যাত্রীরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির খরচ বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভাড়ায়। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা। তারই জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে চাপ বাড়ছে। তার প্রভাবে দেশেও ধাপে ধাপে দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক মহলের একাংশ।

রাজধানী দিল্লিতে এখন প্রতি কেজি সিএনজির দাম ৮৩ টাকা ৯ পয়সা। আগে ছিল ৮১ টাকা ৯ পয়সা। নয়ডা, গাজিয়াবাদ ও গ্রেটার নয়ডায় দাম বেড়ে হয়েছে ৯১ টাকা ৭০ পয়সা। গুরুগ্রামে প্রতি কেজির দাম দাঁড়িয়েছে ৮৮ টাকা ১২ পয়সা। যদিও কলকাতায় এদিন দাম বাড়েনি। তবে শহরে প্রতি কেজি সিএনজির দাম রয়েছে ৯৩ টাকা ৫০ পয়সা।

Advertisement

গত ১৫ মে থেকে শুরু হয়েছে এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি। প্রথমে এক ধাক্কায় ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়। তারপর ১৭ মে, ২৩ মে এবং মঙ্গলবার— এই নিয়ে মাত্র দু’সপ্তাহে চার বার দাম বাড়ল সিএনজির। সব মিলিয়ে কোথাও কোথাও কেজি প্রতি ৬ থেকে ১১ টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

একই সঙ্গে লাগাতার বাড়ছে পেট্রল ও ডিজেলের দামও। সোমবার দেশে এক ধাক্কায় পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা ৬১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ২ টাকা ৭১ পয়সা বেড়েছে। কলকাতায় বর্তমানে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯৯ টাকা ৮২ পয়সা। গত দুই সপ্তাহে চার বার বেড়েছে জ্বালানির দাম।

এই পরিস্থিতিতে পরিবহন খরচও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশের আপামর জনতা। কারণ, ভারতের সর্বত্রই বহু অটো, ট্যাক্সি ও ছোট গাড়ি সিএনজিতে চলে। ফলে পরিবহণ খরচ বাড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আগামী দিনে পেট্রল, ডিজেল ও সিএনজির দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অনিশ্চয়তার জেরেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ৫০ শতাংশের বেশি এবং এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ হরমুজ হয়ে আসে বলে একাধিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়েই পরিবহণ হয়। ফলে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে।

Advertisement