রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরই পূর্ব বর্ধমান জেলার খানা-বোঁয়াইচণ্ডী রেললাইনের কাজের অনুমোদন মিলল। রেল সূত্রে খবর, ২৪ কিলোমিটার এর থেকে কিছুটা বেশি এই রেললাইনের কাজের অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘ দিনের দাবি মিটতে চলেছে এবার। ফলে খানা, গলসি, পানাগড় সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ তাড়াতাড়ি এই কাজ সম্পূর্ণ করার দাবি তুলেছেন।
এই রেললাইনের কাজ সম্পন্ন হলে পূর্ব বর্ধমানের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি, বীরভূম, বাঁকুড়া পুরুলিয়া সহ বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ উপকৃত হবেন। এই রেল পথের কাজ সম্পূর্ণ হলে বাঁকুড়া, হাওড়ার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যাবে। কয়েক বছর আগে এই রেল প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও জমিজট সহ অন্যান্য কারণে এই কাজ বন্ধ হয়ে আছে। যদিও বর্ধমানের খণ্ডঘোষ সহ বিভিন্ন এলাকায় পিলার তৈরির কাজ হয়েছিল। যাত্রীদের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হতে চলেছে।
Advertisement
একসময় ঢাকঢোল পিটিয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। ২০০৯ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন। ২০১০ সালের বাজেটে প্রকল্পের অনুমোদনও মেলে। কাজ শুরুর পর দামোদর নদ-সহ বিভিন্ন জায়গায় পিলারও ওঠে। কিন্তু তারপরই কাজ থমকে যায়। তবে এবার ছাড়পত্র মিলেছে। সেইসঙ্গে বোঁয়াইচণ্ডী-আরামবাগ লাইনের কাজও শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে রেল দপ্তর সূত্রে। ৩১ কিমি দীর্ঘ ওই রেলপথ তৈরিতে প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা খরচ হবে। এদিকে সাধারণ যাত্রীরা দাবি করেছেন যত দ্রুত সম্ভব এই রেলপথের কাজ শুরু হোক।
Advertisement
এই লাইন হলে খানা থেকে সরাসরি আরামবাগ যাওয়া যাবে। এখান থেকে বোঁয়াইচণ্ডী যেতে হলে বর্ধমানে গিয়ে বাস বদলাতে হয়। ট্রেন চালু হলে সেই সমস্যা মিটবে। সময় ও টাকা-দুই-ই বাচবে। অন্যদিকে খানা জংশন এলাকার বাসিন্দারা বলেছেন, এই লাইন চালু হলে বাঁকুড়া ও হুগলি জেলার সঙ্গে দূরত্ব কমে যাবে। সরাসরি গুসকরা হয়ে বীরভূমের সঙ্গে যোগাযোগও তৈরি হবে। ফলে ব্যবসার সুবিধা হবে।
একই সঙ্গে আরামবাগ লাইন চালু হয়ে গেলে তারকেশ্বর, কামারপুকুর, জয়রামবাটি সহ বিভিন্ন তীর্থস্থানে সহজেই যাওয়া যাবে। ওই এলাকা থেকে সহজে বর্ধমান, বোলপুর, রামপুরহাট আসা যাবে। ফলে পর্যটনশিল্পে জোয়ার আসবে। বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছা থাকলেও রাজ্যে তৃণমূল সরকারের জন্য এতদিন প্রকল্প সম্পূর্ণ করা যায়নি। এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার হয়েছে। প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হবে। মানুষ উপকৃত হবে।
আসানসোল – বর্ধমান রেল শাখার খানা জংশন থেকে বাঁকুড়া – হাওড়া রেল লাইন সংযুক্ত হতে চলেছে নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে। এ রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পর্যন্ত কাজ বন্ধই ছিল। রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হতেই ওই রেল শাখায় কাজের অনুমোদন মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। খুব শীঘ্রই রেল দপ্তরের তরফে কাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বাস মিলেছে। এজন্য ৩৯ কোটি টাকা খরচ হবে। এই রেললাইনের কাজ সম্পন্ন হলে পূর্ব বর্ধমানের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি, বীরভূম, বাঁকুড়া পুরুলিয়া জেলার রেল যাত্রীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
Advertisement



