সপ্তাহের প্রথম দিনেই চাঙ্গা মেজাজে শেষ হল ভারতীয় শেয়ার বাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা, টাকার দর শক্তিশালী হওয়া এবং আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের উত্তেজনা কমার আশায় সোমবার সকাল থেকেই বাজারে জোরদার কেনাকাটা দেখা গিয়েছিল। এর জেরে আজ সেনসেক্স ও নিফটি দু’টিই বড় উত্থান নিয়ে দিনের লেনদেন শুরু করে।শেষ পর্যন্তও এই সতেজভাব দেখা গিয়েছে বাজারে। আজ বাজার বন্ধের সময়ে সেনসেক্স ছিল ৭৬,৪৮৮.৯৬ পয়েন্টে। যা গতকালের তুলনায় +১০৭৩.৬১ পয়েন্ট বেশি। সেই সঙ্গে নিফটি ছিল ২৪,০৩১.৭০ পয়েন্টে। যা গতকালের তুলনায় ৩১২.৪০ পয়েন্ট বেশি।
আজ সকাল প্রায় ৯টা ২৪ মিনিট নাগাদ বিএসই সেনসেক্স ৮৯২.০৫ পয়েন্ট বা ১.১৮ শতাংশ বেড়ে পৌঁছে যায় ৭৬,৩০৭.৪০ পয়েন্টে। অন্যদিকে নিফটি ৫০ ২৫৯.৫০ পয়েন্ট বা ১.০৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২৩,৯৭৮.৮০-এ। দিনের শুরুতেই নিফটি ২৪ হাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্তরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, এদিন বাজারে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫.৫৮ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯৭.৭৬ ডলারে পৌঁছয়। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডও ৫.৮৫ শতাংশ কমে ৯৮ ডলারের আশপাশে লেনদেন করছিল।
Advertisement
বাজারে আশাবাদ তৈরি হয়েছে কারণ আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে খবর মিলছে। যদি এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমতে পারে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় পুরোপুরি চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ এই পথ দিয়েই হয়। ফলে সেখানে সমস্যা তৈরি হলেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
ভারতের জন্য তেলের দাম কমা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশ মোট প্রয়োজনের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। তেলের দাম কমলে জ্বালানির আমদানি খরচ কমে, মূল্যবৃদ্ধির চাপ হ্রাস পায় এবং সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাও কমে যায়। এর ফলে ব্যাঙ্কিং, অটো, বিমান পরিবহণ এবং ভোগ্যপণ্য ক্ষেত্রের শেয়ারগুলিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ‘তেলের দাম ৫ ডলার কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে। বাজার এখন দেখছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা কতটা বাস্তবায়িত হয়। যদি এই পরিস্থিতি বজায় থাকে, তাহলে তা বাজারের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।’
তিনি আরও জানান, মার্চ ত্রৈমাসিকের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলাফলও বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সংস্থাগুলির ভালো বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
এদিন টাকার দরও শক্তিশালী হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা ০.৩৭ শতাংশ বেড়ে ৯৫.৩৪-এ খুলেছে। সম্প্রতি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ডলারের তুলনায় টাকার দর ৯৭-এর কাছাকাছি নেমে গিয়েছিল। টাকার দর শক্তিশালী হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে এবং আমদানি-জনিত মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমে।
খাতভিত্তিক সূচকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাভ করে অটো সূচক। নিফটি অটো ২.৩১ শতাংশ বেড়ে যায়। পাশাপাশি ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা খাতেও জোরদার কেনাকাটা দেখা যায়। নিফটি পিএসইউ ব্যাঙ্ক ১.৬৩ শতাংশ এবং নিফটি প্রাইভেট ব্যাঙ্ক ১.৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম যদি আগামী দিনেও ১০০ ডলারের নিচে থাকে এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা আরও কমে, তাহলে বাজারে ইতিবাচক ধারা বজায় থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি ফের জটিল হলে শেয়ার বাজার, তেলের দাম এবং মুদ্রাবাজারে আবারও অস্থিরতা বাড়তে পারে।
Advertisement



