জরায়ুমুখ ক্যানসার বা সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে টিকাকরণ কর্মসূচি। আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হবে এই কর্মসূচি। শনিবার স্বাস্থ্য বৈঠকের পর একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গে মোট ৭ লক্ষ ডোজ টিকা পাঠানো হচ্ছে, যা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে এই টিকাকরণ শুরু হবে। মূলত ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীদের এই টিকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্ভাইক্যাল ক্যানসার মহিলাদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্যানসার। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৬ লক্ষ নারী নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হন এবং প্রতি বছর মৃত্যুহার প্রায় ৩.৪ লক্ষ।এটি মহিলাদের মধ্যে চতুর্থতম ক্যানসার। ভারতে এটি মহিলাদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক সাধারণ ক্যানসার হিসেবে চিহ্নিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি এক লক্ষ নারীর মধ্যে প্রায় ১৪ জন নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হন এবং মৃত্যুর হার লাখে ৯ জন। এই ক্যানসার প্রতিহত করতে টিকাকরণের উপর জোর দিয়েছে কেন্দ্র। অর্থাৎ সময়ে টিকা নিয়ে নিলে ক্যানসার প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ প্রতিহত করা সম্ভব।
Advertisement
চিকিৎসকদের বক্তব্য, মানবদেহে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস সংক্রমণই এই ক্যানসারের প্রধান কারণ। সাধারণত যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। মূলত যাদের একধিক যৌনসঙ্গী তাদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি।পাশাপাশি ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান ও স্থূলতাও ঝুঁকি বাড়ায়। সময়মতো টিকা নিলে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
Advertisement
ভারতে মহিলাদের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অনেকেই লোকলজ্জায় যৌনাঙ্গের কোনও সমস্যার কথা পরিবারের কাউকে এমনকী সঙ্গীকেও বলতে পারেন না। এড়িয়ে যাওয়ার ফলে বিপদ বাড়ে আর ক্যানসার দেরিতে ধরা পড়ে। তাই অতিরিক্ত সাদাস্রাব, মাসিকের পরও রক্তপাত, মেনোপজ হয়ে যাওয়ার পরও রক্তক্ষরণ এবং কোমরে ব্যথা হলে সাবধান হওয়া প্রয়োজন বলেই দাবি চিকিৎসকদের।
এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন স্বাস্থ্য বৈঠকে জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে রাজ্যে জনৌষধি কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলায় ১১৭টি কেন্দ্র থাকলেও তা বৃদ্ধি করে ৪৬৯টি করা হবে। দুরারোগ্য ব্যাধির ক্ষেত্রে ওষুধে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে ওষুধ পাওয়া যাবে।
ন্যাশনাল হেলথ মিশনের অধীনে কেন্দ্রীয় অনুদান নিয়েও আলোচনা হয়, যেখানে রাজ্যকে মোট ২ হাজার ১০৩ কোটি টাকার বরাদ্দের মধ্যে শনিবার ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করে তোলা।
Advertisement



