আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে আয়োজিত এক বৈঠকের পর মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তকে সঙ্গে নিয়ে তিনি জানান, চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যান্য পদে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় কর্মী ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রকল্পে বর্তমানে মাত্র ৫৩ শতাংশ নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম। তাঁর মতে, জাতীয় পর্যায়ে এই হার ইতিমধ্যেই প্রায় ৯৮ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে।
Advertisement
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নিয়োগ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত পদগুলির তুলনায় বাস্তবে নিয়োগ হয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণ করতেই আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও সংস্কারমূলক নিয়োগ নীতি কার্যকর করা হবে।
Advertisement
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এছাড়া তিনি জানান, পরীক্ষার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ওএমআর ভিত্তিক পরীক্ষায় কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। লিখিত পরীক্ষা, অ্যাকাডেমিক স্কোর এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বণ্টন ব্যবস্থাও পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
শিয়ালদহে আয়োজিত সরকারি রোজগার মেলাতেও তিনি এই বার্তা দেন এবং বলেন, নতুন নিয়োগ নীতির মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা—দুইই নিশ্চিত করা হবে। আগামী বাজেট অধিবেশনে এই নতুন নিয়োগ কাঠামো সংক্রান্ত প্রস্তাব বিধানসভায় আনা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক নিয়োগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার।
Advertisement



