অটোয়া: কানাডার ক্রিকেট প্রশাসনকে ঘিরে চলা বিতর্ক এবার আরও ভয়াবহ দিকে মোড় নিল। কানাডার ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি অরবিন্দর খোসার বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দাগী লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ থাকার আশঙ্কা করছে কানাডার পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভোর প্রায় ৪টে ৪০ মিনিট নাগাদ একদল দুষ্কৃতী খোসার বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। বাড়ির ভিতরে তখন একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে কেউ আহত হননি বলে জানা গিয়েছে। বাড়ির দরজা, জানলা এবং বাইরের দেওয়ালে একাধিক বুলেটের চিহ্ন দেখতে পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে তোলাবাজি বা ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে ঘটনার যোগ থাকার সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
Advertisement
এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ক্রিকেট কানাডা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিক গুরুতর অভিযোগে জর্জরিত। দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন কানাডা দলের নির্বাচনে প্রভাব খাটাতে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বোর্ড কর্তাদের। তদন্তকারীদের সন্দেহ, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের তরফে চাপ সৃষ্টি করে নির্দিষ্ট কয়েকজন ক্রিকেটারকে দলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
Advertisement
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কানাডা দলের অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া। অভিযোগ, গ্যাংয়ের চাপের মুখেই তাঁকে অধিনায়ক করা হয়। শুধু তাই নয়, কয়েকজন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ না দেওয়ার জন্যও বোর্ড কর্তাদের সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। তদন্তের সূত্রে ‘ওদের স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছিল— এই ক্রিকেটারদের খেলাতেই হবে। বাদ দিলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। আমরা জানি তোমরা কোথায় থাকো।’
এই অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই ম্যাচ গড়াপেটার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের দুর্নীতি দমন শাখার নজরে এসেছে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চেন্নাইয়ে খেলা একটি ম্যাচ। সেই ম্যাচে অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার করা একটি ওভার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ওই ওভারে একটি নো-বল এবং একটি ওয়াইড-সহ মোট ১৫ রান খরচ করেছিলেন তিনি। ক্রিকেটমহলের একাংশের মতে, ঘটনাটি স্বাভাবিক ভুল, নাকি পরিকল্পিত গড়াপেটার অংশ— তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইসিসির অন্তর্বর্তীকালীন দুর্নীতি দমন শাখার প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ অবশ্য এই বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে, ফলে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।
এর মধ্যেই আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফাঁস হওয়া একটি অডিও ক্লিপকে ঘিরে। সেখানে কানাডা দলের প্রাক্তন কোচ খুররম চোহান দল নির্বাচন এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়ে বিস্ফোরক এবং ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বলে দাবি। অন্যদিকে, প্রাক্তন হেডকোচ পুবুদু দাসানায়েকে প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে আইনি লড়াই শুরু করেছেন।
এককথায়, কানাডা ক্রিকেট এখন এক গভীর সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে। আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করা দেশটির ক্রিকেট কাঠামো এবার প্রশ্নের মুখে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, দল নির্বাচনের নিরপেক্ষতা এবং ম্যাচের সততা— সব কিছু নিয়েই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ক্রিকেটমহলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কানাডার বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ধাক্কা খেতে পারে।
Advertisement



