অলিভিয়া সরকার
যন্ত্রণার অবসান। অস্কারের হাত ধরে অবশেষে শাপমুক্তি ঘটল ইস্টবেঙ্গলের। দীর্ঘ ২২ বছর ২২ দিন পর ফের একবার জাতীয় পর্যায়ে খেতাব জিতল লাল হলুদ ব্রিগেড। বৃহস্পতিবার কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ২-১ গোলে ম্যাচ জিতল তারা। খেলার শুরুর ১৪ মিনিটের মধ্যে অবশ্য প্রথম গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল ইন্টার কাশী। বক্সের বাইরে থেকে হাফ ভলিতে তাদের এগিয়ে দিয়েছিল আলফ্রেড মোয়া।
সেইসময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ একেবারেই ইস্টবেঙ্গলের হাতে ছিল না। বরং, পরপর আক্রমণে লাল হলুদ ডিফেন্সকে রীতিমতো ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিল ইন্টার কাশীর ফুটবলাররা। তবে, ফের একবার ভরসা জোগালো ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক প্রভসুখান গিল। দলের হয়ে বেশকিছু নিশ্চিন্ত পতন রোধ করেন তিনি। যদিও, খেলার এই অর্ধে মহম্মদ রাকিপের চোটটা কিছুটা হলেও শাপে বর হল ইস্টবেঙ্গলের জন্য। রাকিপের পরিবর্তে লাল হলুদ কোচ অস্কার মাঠে নামান ডেভিড লালহানসাঙ্গাকে। তিনি মাঠে নামতেই ধীরে ধীরে খেলায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল। গোলের সামনে বেশকিছু ভালো সুযোগ ও পেয়ে গেয়েছিল তারা। তবে, প্রথমার্ধে খেলার ফলাফলে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলশোধ করার লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। অবশেষে, ম্যাচের ৫০ মিনিটে আনোয়ারের পাস থেকে দলের হয়ে গোল পরিশোধ করেন ইউসুফ এজ্জেজারি। বক্সের মধ্যে জটলার মধ্যে থেকে যেভাবে গোলটি করে গেলেন তিনি, তা নিঃসন্দেহে বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। এরপরেই জোড়া পরিবর্তন আনেন অস্কার। জয় গুপ্তাকে তুলে তিনি মাঠে নামান লালচুনলুঙ্গাকে। পাশাপাশি, বিষ্ণুকে তুলে তিনি মাঠে আনেন নন্দকুমারকে । তাতেই আক্রমণের চাপ আরও বাড়ে ইস্টবেঙ্গলের। কিন্তু, প্রয়োজনীয় গোল কিছুতেই পাচ্ছিল না তারা। শেষপর্যন্ত, খেলার ৬২ মিনিট নাগাদ বিপিনের পাস থেকে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করে যান প্যালেস্টাইনের মিডফিল্ডার মহম্মদ রশিদ।
এরপরেও গোল করার বেশকিছু ভালো সুযোগ এসেছিল সজবার্গ, বিপিনদের সামনে। তবে, গোলব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হয় তারা। তাতে অবশ্য ট্রফি জয় আটকায়নি ইস্টবেঙ্গলের। ওই ২-১ গোলে জিতে শেষপর্যন্ত ২২ বছরের ট্রফি খরা কাটাল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ শেষে প্রিয় দল জিততেই উৎসবে মেতে ওঠেন লাল হলুদ সমর্থকরা। আতশ বাজি পুড়িয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন তারা। বেশকিছু সমর্থক ফেন্সিং টপকে মাঠেও ঢুকে পড়েন।
মশাল জ্বালিয়ে উৎসবে মাতেন তারা। কেউ কেউ আবার লাল হলুদ আবিরে রাঙিয়ে নেন নিজেদের। আসলে, যন্ত্রণা মুক্তির আবেগ বোধহয় একেই বলে।




