• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 7 June, 2026

গুলজার সাহেবের কাছ থেকে যে ডিসিপ্লিন শিখেছিলাম তা আজও মেনে চলি

অনেকদিন পর বাংলা ছবিতে ফিরেছেন অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী। ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’। পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়। ছবি নিয়ে অর্জুন চক্রবর্তী-র সঙ্গে কথা বললেন দেবযানী লাহা ঘোষ

২৯ শে মে মুক্তি পেতে চলেছে নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড। এই ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? এতদিন পর এমন চরিত্রে ফিরে আসার অনুভূতি কী?
অর্জুন: এর আগে বহু পরিচালক আমার দরজায় কড়া নেড়েছেন। অনেক অফারও এসেছে, কিন্তু স্ক্রিপ্ট বা চরিত্র মনমতো না হওয়ায় সম্মতি জানাতে পারিনি। খুব খারাপ লাগত, কিন্তু অনিচ্ছা সত্ত্বেও না বলতে হতো। তবে নন্দিতা আর শিবু যখন এই চরিত্রটা নিয়ে এল, তখন মনে হল— আমি যেন এরকম কিছুর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। চরিত্রটা সত্যিই নেশা ধরানো। প্রত্যেক শিল্পীরই এমন একটা চরিত্রে অভিনয় করার লোভ থাকে। ওঁরা এত সুন্দরভাবে পুরো বিষয়টা বুঝিয়েছেন যে, হোমওয়ার্ক করতে কোনও অসুবিধাই হয়নি।

চরিত্রটার প্রস্তুতি নিতে কী কী ধরনের হোমওয়ার্ক করতে হয়েছে?
অর্জুন : একটা চরিত্রে অভিনয়ের আগে অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়। আমি ভেবেছি গলার আওয়াজ কেমন হবে, পোশাক কেমন হবে, কীভাবে চরিত্রটাকে উপস্থাপন করব। আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি। এখন বাকিটা দর্শক ঠিক করবেন। পরিচালকরা আমার কাজ দেখে সন্তুষ্ট— এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। তবে একটা ভয় কাজ করছে, ছবিটা মুক্তির পর দর্শকের প্রতিক্রিয়া কী হবে।

‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’ নামটার মধ্যেই যেন কমেডি আর থ্রিলারের মিশেল রয়েছে। শুটিং ফ্লোরে কতটা উপভোগ করেছেন?
অর্জুন : প্রচণ্ড মজা করে কাজ করেছি। এখানে বেশিরভাগ শিল্পীর সঙ্গেই প্রথমবার কাজ করছি। দারুণ টিমওয়ার্ক হয়েছে। কোনও তর্ক-বিতর্ক ছাড়াই সবাই খুব সুন্দরভাবে কাজ করেছি। একজন আরেকজনের ডায়লগ খুব সহজেই ধরে নিয়েছি। পুরো কাজটাই ভীষণ সুন্দরভাবে শেষ হয়েছে এবং আমি প্রত্যেকের কাছ থেকেই কিছু না কিছু শিখেছি।

প্রশ্ন : আপনার দীর্ঘ কেরিয়ারের দিকে ফিরে তাকালে কী মনে হয়— ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক বদল এসেছে?
অর্জুন : আমি মনে করি কোনও কিছুই শুধুমাত্র ফ্যাশনের জন্য বদলায় না। প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনেই একটা কারণ থাকে। শুধু দেখানোর জন্য কিছু হয় না। আমি যদি কোনও পরিবর্তনকে মেনে নিতে না পারি, তাহলে সেটা আমার ভুল। কারণ আমি বিশ্বাস করি, যা হয় তার পেছনে একটা সঠিক কারণ থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সব ভালোই হয়।

আপনি মৃণাল সেন, সন্দীপ রায় এবং গুলজার সাহেবের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে কাজ করেছেন। গুলজারের কাছ থেকে কী শিখেছেন?
অর্জুন: গুলজার সাহেবের কাছ থেকে আমি সবচেয়ে বেশি শিখেছি ডিসিপ্লিন। এমনও সময় গেছে, যখন আমাদের ৭-৮ মাস কোনও কাজ ছিল না। কিন্তু উনি প্রতিদিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় উঠে নিজের কাজ সেরে ঠিক দশটার মধ্যে অফিসে পৌঁছে যেতেন। উনি সবসময় বলতেন—“Always keep your gun loaded”, কারণ কখন কোন সুযোগ আসবে কেউ জানে না। সেই শিক্ষাটাই আমি আজও মেনে চলি। আজ পর্যন্ত
কেউ বলতে পারবে না যে আমি কখনও শুটিংয়ে দেরি করে এসেছি বা কাজে অমনোযোগী ছিলাম।

শিল্পীর জীবনে ওঠাপড়া থাকেই। কাজ না থাকার সময় নিজেকে কীভাবে ধরে রেখেছিলেন?
অর্জুন: আমার পরিবার সবসময় পাশে থেকেছে। ওরা বিশ্বাস করেছে আমি যা করছি, সেটা ঠিকই করছি। আমি কখনও ইচ্ছে করে অভিনয় থেকে দূরে থাকিনি। সবসময় কাজ করতে চেয়েছি, কিন্তু নিজের জন্য মানানসই চরিত্রে। তাই অনেক সময় না বলতে হয়েছে। তবে আমি অপেক্ষা করেছি এমন একটি চরিত্রের জন্য, যা সত্যিই আমার জন্য তৈরি। আর যখন সেই ধরনের অফার এসেছে, আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেছি।

অভিনয়ের পাশাপাশি আপনি কবিতা লিখেছেন, গান গেয়েছেন, সুর করেছেন। এতগুলো ক্ষেত্রকে কীভাবে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন?
অর্জুন: আমি কখনও না জেনে বা না শিখে কিছু করতে চাইনি। যখনই কিছু করেছি, সেটাকে সম্মান দিয়ে এবং গুরুত্ব দিয়েই করেছি। আমার কবিতা পড়ে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, “তুই লেখা ছাড়িস না”—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার। গান শেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছি আমার মায়ের কাছ থেকে। এছাড়া গুলজার সাহেব এবং মলয় চক্রবর্তী যিনি কবিতা কৃষ্ণমূর্তির গুরু ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছি। সবকিছু মিলিয়েই আমার এই দীর্ঘ যাত্রা।

এখন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রচুর কাজ হচ্ছে। ওটিটি নিয়ে আপনার মত কী?
অর্জুন : অবশ্যই ভালো চরিত্র পেলে কাজ করব। আমি অনেক ওটিটি সিরিজ দেখেছি এবং সত্যিই ভীষণ ভালো লেগেছে। এখন ওটিটিতে অসাধারণ কাজ হচ্ছে। কথাবার্তাও চলছে। আমার কোনও আপত্তি নেই। ভালো কিছু এলে অবশ্যই কাজ করব।

নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে কতটা উপভোগ করছেন?
অর্জুন: এখানে প্রচুর নতুন ছেলে-মেয়ে কাজ করছে। নতুন ক্যামেরাম্যান, নতুন টেকনিশিয়ান— অনেক নতুন মানুষ এসেছে। ওদের সঙ্গে কাজ করে আমার দারুণ লেগেছে। আমাদের কাজের প্রসেস আলাদা হতে পারে, কিন্তু ওদের নতুন ভাবনা থেকে আমি অনেক কিছু শিখছি।

দর্শকদের উদ্দেশে ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ নিয়ে কী বলতে চান?
অর্জুন: আমি কখনও হাতজোড় করে বলব না যে ছবিটা দেখুন, কারণ জোর করে কাউকে কিছু দেখানো যায় না। তবে একটা বিনীত অনুরোধ। আমরা সবাই ভীষণ খেটে কাজ করেছি। আমার বিশ্বাস ছবিটা খুব ভালো হয়েছে এবং দর্শকদের ভালো লাগবে। আশা করি তাঁরা হলে গিয়ে ছবিটা উপভোগ করবেন।