• facebook
  • twitter
Tuesday, 26 May, 2026

নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ: শরীর আগেই সঙ্কেত দেয়

শরীরে এই ধরণের উপসর্গগুলি দেখা দিলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা উচিত, লবণ ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

উচ্চ রক্তচাপ এমন একটি শারীরিক সমস্যা, যা ধীরে ধীরে শরীরের রক্তনালিগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। দীর্ঘ সময় ধরে এই অবস্থা চলতে থাকলে ধমনীর স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। রক্তনালি সংকুচিত ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে হৃদ্‌যন্ত্র, মস্তিষ্ক ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই অবস্থাকেই বলা হয় হাইপারটেনশন।

চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হল, অনেক ক্ষেত্রেই প্রথম দিকে কোনও স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপে ভুগলেও তা বুঝতে পারেন না। ধীরে ধীরে হৃদ্‌যন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।

Advertisement

চিকিৎসকদের মতে, ৪০ বছরের পর থেকে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। যাঁদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে আরও কম বয়স থেকেই এই অভ্যাস শুরু করা উচিত। হঠাৎ ঘাম হওয়া, অস্বাভাবিক রাগ, বুক ধড়ফড় বা হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে রক্তচাপ মাপা দরকার। উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় শরীরে ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলে, তাই ছোট ছোট পরিবর্তনও উপেক্ষা করা উচিত নয়।

Advertisement

শরীরে কিছু উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। সকালে ঘুম ভাঙার পর মাথা ব্যথা এর ্ন্যতম কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মাথার পিছনের দিকে চাপ বা ভারী ভাব থাকলে তা উচ্চ রক্তচাপের ইঙ্গিত হতে পারে। যদিও সব মাথাব্যথার কারণ এটি নয়, তবুও সতর্ক থাকা জরুরি। অতিরিক্ত ক্লান্তিও উচ্চ রক্তচাপের সঙ্কেত হতে পারে। হঠাৎ কাজ করার ক্ষমতা কমে যাওয়া, অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়া—এগুলো হৃদ্‌যন্ত্রের উপর চাপ বাড়ার লক্ষণ হতে পারে।

চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে বা চোখে চাপ অনুভূত হতে পারে। এছাড়া ঘাড়ের দুই পাশে রক্তনালির স্পন্দন বেড়ে গেলে বা শরীরে অস্বস্তি হলে তা রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। সিঁড়ি ওঠার সময় অতিরিক্ত হাঁপ ধরে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা বা বুকে চাপ অনুভব করলে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইপারটেনশন ধীরে ধীরে শরীরের ভিতরে ক্ষতি করে, কিন্তু বাইরে থেকে অনেক সময় বোঝা যায় না। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে হার্ট ফেলিওর, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগ দিতে পারে।

শরীরে এই ধরণের উপসর্গগুলি দেখা দিলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা উচিত, লবণ ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা করা প্রয়োজন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, এবং সেইসঙ্গে মানসিক চাপ কমাতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপ এমন একটি শারীরিক সমস্যা যা সময়মতো ধরা না পড়লে প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দেওয়া এবং নিয়মিত পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে ভাল প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

Advertisement