• facebook
  • twitter
Monday, 18 May, 2026

অন্নপূর্ণা যোজনায় অনুমোদন, সপ্তম বেতন কমিশন গঠনেরও সিদ্ধান্ত মন্ত্রীসভার বৈঠকে

তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীন ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে দেওয়া কিছু সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ করা হবে

নতুন বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেল সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা (ডিএ) এবং বেতন কাঠামো সংক্রান্ত বিষয়। পূর্বতন সরকারের আমলে ডিএ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও আন্দোলনের আবহে সোমবারের বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর ছিল সরকারি কর্মচারীদের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে হওয়া এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

নবান্নে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পাঁচ মন্ত্রী— পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া এবং আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালও।

Advertisement

মন্ত্রীসভায় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণাকে ঘিরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ ও নতুন বেতন কমিশনের দাবি তুলে আসছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা।

Advertisement

এ ছাড়াও নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের অধীনে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁদেরই নাম অন্নপূর্ণ ভাণ্ডার প্রকল্পে ট্রান্সফার হয়ে যাবে। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হবে। যাঁরা এত দিন পাননি, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। শীঘ্রই পোর্টাল খোলা হবে।‘ তিনি আরও জানান, যাঁরা সিএএ-র জন্য আবেদন করেছেন বা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরাও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন। পাশাপাশি আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্ত চাকরি এবং সরকারি পদে অন্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সংরক্ষণের শতকরা হার, রাজ্য তালিকাভুক্ত অন্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকা পুনর্বিবেচনা এবং উপশ্রেণিবিভাগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রীসভায়। অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘নতুন করে এনকোয়ারি হবে। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যে গোষ্ঠীগুলিকে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।‘

বৈঠকের পর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীন ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে দেওয়া কিছু সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ করা হবে। তাঁর বক্তব্য, চলতি মাস পর্যন্ত প্রকল্পগুলি চালু থাকলেও আগামী মাস থেকে তা আর কার্যকর থাকবে না। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় মন্ত্রীসভার বৈঠকে সরকারি কর্মী, নারীকল্যাণ ও প্রশাসনিক সংস্কার— এই তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল নতুন সরকার।

Advertisement