আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাজনৈতিক সভা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সভা থেকে তিনি তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে তীব্র আক্রমণ শানান। একই সঙ্গে নাম না করেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ফলতার একাধিক বুথে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠার পর পরিস্থিতি বিচরা করে নির্বাচন কমিশন পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। সেই আবহে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘ওই ডাকাতটা কোথায়? পুষ্পা না কী যেন নাম! সাধারণ নির্বাচনের সময় যত অভিযোগ এসেছে, সবকিছুর ব্যবস্থা হবে।‘ তিনি আরও দাবি করেন, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় মানবাধিকার কমিশনের প্রকাশিত ১৯ জন কুখ্যাত অভিযুক্তের তালিকায় জাহাঙ্গির খানের নাম ছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
সভা থেকে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ফলতার মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেননি। যদিও কারও নাম না করেই তিনি বলেন, ‘অনেকেই জানিয়েছেন, ভাইপো যতদিন ছিলেন, ততদিন ভোট দেওয়া সম্ভব হয়নি।‘ তবে এবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিজেপি প্রার্থীকে এক লক্ষ ভোটে জেতানোর আহ্বানও জানান তিনি।
Advertisement
এদিন ফলতার উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজের প্রতিশ্রুতিও দেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সমস্ত হিসাব হবে।‘শুভেন্দু আরও বলেন, ‘মাননীয় ভাইপোবাবু, লিপস এন্ড বাউন্সে কাল পুরসভা থেকে তথ্য আনলাম। কলকাতায় ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে। আমতলায় বিশাল অফিস।‘ সমস্ত হিসেব হবে বলে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর। এমনকী অভয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ইশারায় অভয়ার সময় যাঁরা প্রমাণ লোপাট করেছেন, ঘুষ দিতে গিয়েছিলেন, তাঁরা সবাই এখন সাসপেন্ড। এখানেও কাউকে ছাড়া হবে না।
তিনি আরও জানান, ডায়মন্ড হারবার পুলিশের কাছে কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট জমা দিতে বলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠদের নির্দেশে এলাকায় অশান্তি ও অত্যাচার চালানো হয়েছে। সেই সব ঘটনারও তদন্ত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
Advertisement



