• facebook
  • twitter
Saturday, 16 May, 2026

আরাবল্লিতে আপাতত বন্ধ সব খনন, কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের এই নির্দেশে নতুন করে গুরুত্ব পেল দেশের অন্যতম প্রাচীন পাহাড়শ্রেণি সংরক্ষণের প্রশ্ন

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

আরাবল্লি পাহাড়শ্রেণিতে আপাতত কোনও ধরনের খননকাজ চলবে না। আদালত নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট বিশ্লেষণ না হওয়া পর্যন্ত আরাবল্লির এক ইঞ্চি জমিতেও খননের অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে শনিবার স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের এই নির্দেশে নতুন করে গুরুত্ব পেল দেশের অন্যতম প্রাচীন পাহাড়শ্রেণি সংরক্ষণের প্রশ্ন।

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট বলেন, ‘আদালত আরাবল্লির নতুন সংজ্ঞা নিয়ে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনও খননকাজ চলবে না।’ আরাবল্লি সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যার সূত্রপাত শক্তিশালী খনি লবির কারণে। আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট, সেটা হল আরাবল্লির পরিবেশকে রক্ষা করা।’ শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ২০২৫-এর গোড়ায় কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক আরাবল্লি পাহাড়ের একটি নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছিল। সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী, আশপাশের এলাকার তুলনায় অন্তত ১০০ মিটার বেশি উচ্চতার ভূখণ্ডকেই আরাবল্লি পাহাড় হিসেবে ধরা হবে। কিন্তু আদালত-নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি এই সংজ্ঞার সঙ্গে একমত হয়নি। তাদের মতে, এই মানদণ্ড কার্যকর হলে আরাবল্লির বিশাল অংশ পরিবেশ সংরক্ষণের আওতার বাইরে চলে যাবে।

Advertisement

২০২৫-এর ২০ নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের বেঞ্চ কেন্দ্রের ওই সংজ্ঞায় সিলমোহর দেয়। তারপরই পরিবেশবিদ, বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। তাঁদের দাবি, এই সংজ্ঞা কার্যকর হলে আরাবল্লির প্রায় ৯০ শতাংশ অঞ্চল আর সংরক্ষিত থাকবে না। ১২ হাজারের বেশি পাহাড়ের মধ্যে মাত্র এক হাজারের মতো পাহাড় নতুন শর্ত পূরণ করতে পারবে। ফলে রাজস্থান, গুজরাত, হরিয়ানা ও দিল্লি জুড়ে বিস্তৃত বিস্তীর্ণ এলাকায় খনন ও বাণিজ্যিক নির্মাণের পথ খুলে যাবে।

ওই রায়ের প্রতিবাদে গত কয়েক মাসে রাজস্থান ও হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনে নামেন পরিবেশপ্রেমী সংগঠন এবং স্থানীয় মানুষজন। একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত সাত বছরে শুধু রাজস্থানেই ৭১ হাজারের বেশি অবৈধ খননের ঘটনা ধরা পড়েছে, যার অধিকাংশই আরাবল্লি সংলগ্ন এলাকায়।

এই পরিস্থিতিতে ২০২৫-এর ২৭ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি ফের বিবেচনার করে দেখার কথা জানায়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, পূর্ববর্তী রায় আপাতত কার্যকর করা হচ্ছে না। পাশাপাশি, আরাবল্লির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই কমিটির রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত আরাবল্লিতে খনন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশই শনিবার আরও একবার স্পষ্ট করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

Advertisement