• facebook
  • twitter
Wednesday, 13 May, 2026

পূর্ণ মন্ত্রীসভা গঠনে আগেই বড় দায়িত্ব! শিক্ষা দপ্তরের ভার স্বপন দাশগুপ্তের কাঁধে দিলেন শুভেন্দু

শুধু দায়িত্ব বণ্টন নয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য— এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কাজকর্মে নিজেও সরাসরি নজর রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এখনও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা তৈরি হয়নি। তার মধ্যেই প্রশাসনিক কাজের গতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আপাতত শিক্ষা দপ্তরের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাসবিহারীর বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তকে।
বুধবার নবান্নে বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের সময় মুখ্যমন্ত্রী এই দায়িত্বের কথা ঘোষণা করেন।
শিক্ষা দপ্তরের মতো সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্বে এখনও কোনও পূর্ণমন্ত্রী না থাকায় প্রশাসনিক স্তরে যাতে কোনও সমস্যা না তৈরি হয়, সেদিকেই গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। বিশেষ করে মাধ্যমিকের ফল ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে এবং উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশও সামনে। এই পরিস্থিতিতে দপ্তরের প্রতিদিনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়ের জন্য অভিজ্ঞ মুখ হিসেবেই স্বপন দাশগুপ্তকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
শুধু দায়িত্ব বণ্টন নয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য— এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কাজকর্মে নিজেও সরাসরি নজর রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট দিনে নিজে দপ্তরে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন। প্রশাসনের বর্তমান অবস্থা, পরিষেবার মান এবং কোথায় কী ঘাটতি রয়েছে, তা সরাসরি বুঝতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী প্রথম দফায় পাঁচজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেন। দিলীপ ঘোষের হাতে গিয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দপ্তর। অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরে দায়িত্ব। খাদ্য দপ্তরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অশোক কীর্তনীয়া। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্ষুদিরাম টুডুকে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব কার হাতে যাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা চলছিল। সেই জল্পনার মাঝেই স্বপন দাশগুপ্তকে দায়িত্ব দিয়ে কার্যত স্পষ্ট বার্তা দিল সরকার যে, শিক্ষা প্রশাসনের কাজে কোনও শূন্যতা রাখতে চায় না তারা।
এদিন বৈঠকে স্কুলগুলিতে গরমের ছুটির মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, শিক্ষা দপ্তরের সচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর যে বার্তা দিচ্ছে, শিক্ষা দপ্তরে স্বপন দাশগুপ্তকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement