যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের শাখা চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের এক সিনিয়র ল্যাবরেটরি সহকারি পলাশ মাঝির নেতৃত্বে কর্মচারীদের একাংশ মঙ্গলবার থেকে ক্যাম্পাসে এই কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষা মহল এবং রাজনৈতিক অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল সাড়ে ছ’টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শারীরিক কসরত, শৃঙ্খলা অনুশীলন এবং লাঠিখেলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক কার্যক্রম চালানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নৈতিক শক্তি এবং সাহসিকতা বৃদ্ধি করা।
Advertisement
পলাশ মাঝির বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে জাতীয়তাবাদ এবং দেশপ্রেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা রয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান সময়ে সেই মূল্যবোধ অনেকাংশে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এই শাখা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক বিতর্কও সামনে এসেছে। অতীতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বিক্ষোভ এবং মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের ঘটনা সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে শাসক এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করেছে।
Advertisement
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের মতে, ক্যাম্পাসের পরিবেশে নতুন ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। কারণ, অতীতেও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং বাহ্যিক সংগঠনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। একাধিকবার রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীদের সফর ঘিরেও অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
যদিও এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনও ছাত্র সংগঠন বা কর্মী সংগঠনের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বামপন্থী এক ছাত্র সংগঠনের এক নেতা এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের কার্যক্রম ক্যাম্পাসে বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করতে পারে এবং ভিন্ন মতাদর্শের পড়ুয়াদের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা হতে পারে।
অন্যদিকে, উদ্যোগের সমর্থকদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ সাংগঠনিক এবং শৃঙ্খলাভিত্তিক কার্যক্রম। এর সঙ্গে কোনও বিভাজনের রাজনীতির সম্পর্ক নেই। সব মিলিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নতুন উদ্যোগ ঘিরে আগামী দিনে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে শিক্ষা মহলের একাংশ।
Advertisement



