পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেওয়ার পরই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দুর সঙ্গে আরও পাঁচ মন্ত্রী শপথ নেন। আর শপথগ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্ট করে তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেন অভিষেক।
পোস্টে তিনি ফের ভোট প্রক্রিয়া ও গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ভোটের ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ও কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে। অনেক নেতা-কর্মী ঘরছাড়া বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আক্রান্ত তৃণমূলকর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক লেখেন, ‘কোথায় কী ঘটছে আমায় সরাসরি জানান। আমি আমার সাধ্যমতো পাশে দাঁড়াব।’ আক্রান্তদের কাছে যাওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
Advertisement
দলের ভাঙন ঠেকাতে তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক লিখেছেন, ‘কর্মীরা নিজেদের মধ্যে ঐকতা বজায় রাখুন। হুমকির শিকার হয়ে যাঁরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁদের অনুরোধ করব নিজের জেলার সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইনের দরবারে যান। এই কঠিন সময়ে আমি আপনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করব।’ হারের পরে তৃণমূলের অনেকে যখন অভিষেককে নিশানা করা শুরু করেছেন, তখন এই বার্তা ‘তাৎপর্যপূর্ণ’।
Advertisement
১৫ বছর পরে রাজ্যের বিরোধী আসনে বসছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গ— দুই ক্ষেত্রেই বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল আপসহীন ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, ভবিষ্যতে দলের আন্দোলনের দিশা নির্ধারণ করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল। অভিষেক আগেই গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিও জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বহু জায়গায় গণনার সময় তৃণমূলের প্রতিনিধিদের বাধা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান। অভিষেক লেখেন, ‘গণনা প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ইভিএমের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অভিযোগ, কন্ট্রোল ইউনিটের অমিল সহ একাধিক ঘটনা জনগণের প্রকৃত রায়ের মর্যাদা দিয়েছে কি না তা নিয়ে ধন্ধ আছে বাংলার জনগণের মনে। যাতে সত্য সামনে আসে, ইতিমধ্যেই গণনা কেন্দ্রগুলির সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিভিপ্যাট স্লিপের স্বচ্ছ গণনার দাবি জানিয়েছি।’
এদিকে ভোট গণনা নিয়ে আইনি পদক্ষেপ করা হবে কি না, তা নিয়েও তৃণমূলের অন্দরে চলছে আলোচনা। যদিও অতীতে এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির নজির খুব কম। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হেরে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর সেই গণনা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করা হয়। রাজ্য বিজেপির নতুন সরকার গঠনের পরেও সেই মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। তাই আবার এ ধরনের মামলা করা হলে তা কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক মহল।
Advertisement



