রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর অবশেষে বদল হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাজমাধ্যমের বায়ো। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স-সহ বিভিন্ন সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে নিজেকে তিনবারের বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে উল্লেখ করেছেন তিনি। সাধারণত ক্ষমতার অবসান হলে মুখ্যমন্ত্রীর নামের আগে ‘প্রাক্তন’ শব্দ জুড়ে দেওয়াই দস্তুর। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাজমাধ্যমে এই প্রাক্তন শব্দটি ব্যবহারই করলেন না। অন্যদিকে, শপথগ্রহণের পর সমাজমাধ্যমে নিজের পরিচয় বদলেছেন শুভেন্দু অধিকারীও। নামের সঙ্গে জুড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পরিচয়।
শনিবার ব্রিগেডে রাজ্যে বিজেপি সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পর সমাজমাধ্যমের নতুন বায়োতে মমতা লিখেছেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গের ১৫তম, ১৬তম এবং ১৭তম বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। পাশাপাশি নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। শপথ গ্রহণের পরই এই পরিবর্তন সামনে আসে।
Advertisement
আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ মে পর্যন্ত পূর্বতন সরকারের মেয়াদ ছিল। রাতে পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন রাজ্যপাল আরএন রবি। অর্থাৎ, বিধানসভার অস্তিত্বও আর নেই। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে তারা প্রকৃত অর্থে হারেনি, বরং হারানো হয়েছে।
Advertisement
সেই আবহেই ভোটের ফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে অনীহা দেখান মমতা। এমনকি রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার পরও তাঁর সমাজমাধ্যমের বায়োতে ‘পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী’ লেখা ছিল। মঙ্গলবার কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি ইস্তফা দেবেন না। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘আমরা হারিনি, তাই ইস্তফার প্রশ্ন নেই।’ সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চাও শুরু হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের পতনের সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল প্রকাশের দিনই রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে বলেই অনেকে মনে করেছিলেন। তবে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি দেখা গেল।অবশেষে নতুন সরকারের শপথের পর নিজের ডিজিটাল পরিচয়ে পরিবর্তন আনলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। যদিও ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ শব্দবন্ধ এড়িয়ে যাওয়াকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
Advertisement



