• facebook
  • twitter
Saturday, 9 May, 2026

বিজেপিকে সমর্থনের বার্তা হুমায়ুনের

বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন মুর্শিদাবাদের নওদা ও রেজিনগর— দুই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হন এবং জয়লাভ করেন

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই আবহেই আগামী ২০২৯ লোকসভা নির্বাচন নিয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর।

শনিবার বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণের দিনই নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন নওদার জয়ী প্রার্থী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ৩টি, মালদহের ২টি এবং রায়গঞ্জ— এই ৬টি আসনে তাঁদের দল প্রার্থী দেবে। তবে রাজ্যের বাকি সমস্ত আসনে বিজেপিকে ‘অঘোষিত সমর্থন’ জানানো হবে বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।

Advertisement

হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ‘মুর্শিদাবাদের ৩, মালদহের ২ এবং রায়গঞ্জ— এই ৬টি আসনে আমরা লড়ব। বাকি সব আসনে বিজেপিকে সমর্থন করব।’ একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, মুর্শিদাবাদের তিনটি লোকসভা আসনে তৃণমূলকে হারানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তাঁর কথায়, ‘বহরমপুর থেকে আমি জিতব। জঙ্গিপুর ও বহরমপুরে আমার দুই প্রার্থীকে জেতাব। মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে হারিয়েই দেখাব।’

Advertisement

রাজনৈতিক মহলের মতে, হুমায়ুন কবীরের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, একসময় তিনি তৃণমূলেরই পরিচিত মুখ ছিলেন। পরে দল ছেড়ে নিজস্ব রাজনৈতিক দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি মুর্শিদাবাদের নওদা ও রেজিনগর— দুই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হন এবং জয়লাভ করেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে।

সেই প্রসঙ্গেও এদিন মুখ খোলেন হুমায়ুন। তিনি জানিয়েছেন, রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিয়ে সেখানে উপনির্বাচনে নিজের ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী করবেন। অর্থাৎ পরিবারকেন্দ্রিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ইঙ্গিতও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপিকে সরাসরি জোটসঙ্গী না হয়েও ‘অঘোষিত সমর্থন’-এর ঘোষণা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন কবীরের এই অবস্থান আগামী দিনে তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement