বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে ইস্তফা বিতর্ক দানা বেঁধেছে। নিয়ম অনুযায়ী বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করার কথা থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি হারেননি, তাই ইস্তফার প্রশ্নই ওঠে না। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তরজা। এই আবহেই বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন মমতার বিরুদ্ধে। বুধবার কলকাতার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে মমতার উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘শাড়ি পরা ডোনাল্ড ট্রাম্প। দু’দিন পর ক্ষমতার নেশা কেটে যাবে।’ তাঁর বক্তব্য, জনতা রায় দিয়ে দিয়েছে, কিন্তু মমতা তা মানতে চাইছেন না।
মঙ্গলবার কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা দাবি করেছিলেন, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এবং ১০০-র বেশি আসনে ভোট লুট হয়েছে। সেই কারণেই তিনি ইস্তফা দেবেন না বলেই জানিয়ে দেন। এই অবস্থান ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে—সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।
সংবিধান অনুসারে, বিধানসভার মেয়াদ শেষ হলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা সম্ভব নয়।
Advertisement
যদি কোনও মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেন, সে ক্ষেত্রে রাজ্যপালের হাতে একাধিক সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন, প্রয়োজনে বরখাস্তও করতে পারেন। এছাড়া বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। সেখানে ব্যর্থ হলে পদ ছাড়তেই হবে।পরিস্থিতি আরও জটিল হলে সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করার পথও খোলা থাকে। সেই ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে চলে যেতে পারে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর শুধু রাজনৈতিক পালাবদলই নয়, সাংবিধানিক পরিস্থিতি নিয়েও তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। এখন নজর রাজ্যপালের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশের দিকে।
Advertisement
Advertisement



