বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই আবহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ‘আমি ইস্তফা দেবো না। অমি হারিনি, রাজভবনে যাবো না।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভোট প্রক্রিয়ায় ‘নোংরা খেলা’ হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ভোটে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি একসঙ্গে অনিয়ম করেছে। জোর করে হারানো হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে ফলাফল।’ এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপির অত্যাচার আর সহ্য করব না। আগে যেমন রাস্তায় ছিলাম, তেমনই ফের রাস্তায় নামব।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, আগামী দিনে রাজ্যে আন্দোলনের পথেই হাঁটতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
Advertisement
অন্যদিকে, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনের জন্য ১০ সদস্যের একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ‘এই কমিটিতে ৫ জন সাংসদও থাকবেন। তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন।’
Advertisement
এদিন তিনি বিরোধী জোটের নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘সোনিয়া, রাহুল, অখিলেশ, হেমন্ত সোরেন, তেজস্বীরা ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।’ জানা গিয়েছে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব আগামীকাল কলকাতায় এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন তাঁর লক্ষ্য পরিষ্কার। ‘আমি এখন স্বাধীন। অন্য বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে কী করব, তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছি,’— বলেন তিনি। এদিন সল্টলেকে বিজেপির পার্টি দপ্তরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফলের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা একপ্রকার স্পষ্ট।
Advertisement



