পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলের সাংসদ সায়নী ঘোষ জানালেন, তিনি বিনম্রভাবে জনতার রায় মেনে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, লড়াই থামছে না—বরং আরও জোরদার হবে।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সায়নী লেখেন, ‘বাংলার মানুষের রায় আমি বিনম্রভাবে গ্রহণ করছি। মা-মাটি-মানুষের যে সমর্থন আমরা এতদিন পেয়েছি, তার জন্য কৃতজ্ঞ।’ তিনি আরও জানান, যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত থাকবে।
Advertisement
তিনি বলেন, ‘নির্ভয়ে, মাথা উঁচু করে আমি আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পাশে থাকব। গণতন্ত্র ও দেশের ঐক্য রক্ষায় আমরা একসঙ্গে লড়ব।’
Advertisement
এই নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ১৯৬। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিজেপি পেয়েছে ২০৬টি আসন, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮১টি আসন।
সায়নী ঘোষ অভিযোগ করেন, এই নির্বাচনে তাঁদের দলকে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার চাপ, আর্থিক অবরোধ, মিথ্যা মামলা এবং অদৃশ্য কারচুপির মতো অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সব বাধা পেরিয়ে আমরা লড়াই করেছি।’
তাঁর দাবি, এই লড়াই এখানেই শেষ নয়। বরং আগামী দিনে আরও তীব্রভাবে মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই চালাবে তৃণমূল কংগ্রেস।
ভোটের নিরিখে বিজেপি পেয়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট, তৃণমূল কংগ্রেস ৪১ শতাংশ। বামফ্রন্ট ৪ শতাংশ, কংগ্রেস ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য দল মিলিয়ে ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং পূর্ব মেদিনীপুর-সহ একাধিক জেলায় তৃণমূল একটি আসনও জিততে পারেনি। আদিবাসী ও মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাতেও বড় ধাক্কা খেয়েছে দলটি।
সব মিলিয়ে, পরাজয়ের পরেও সায়নী ঘোষের বার্তায় উঠে এসেছে একদিকে জনতার রায় মেনে নেওয়ার সুর, অন্যদিকে আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি।
Advertisement



