গ্রামীণ শ্রমিকদের মজুরি প্রদানে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের জন্য মনরেগা প্রকল্পে প্রথম কিস্তি হিসেবে ১৭,৭৪৪ কোটিরও বেশি টাকা ছাড় করেছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অর্থ সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে সরাসরি হস্তান্তর পদ্ধতির মাধ্যমে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং কোনও রকম দুর্নীতির সুযোগ না থাকে।
এই অর্থবর্ষে মনরেগার জন্য মোট ৩০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে বকেয়া মজুরি মিটিয়ে ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্পে রূপান্তর সহজ হয়। আগামী দিনে ‘বিকশিত ভারত-গ্রামীণ’ নামে নতুন উদ্যোগ চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যার জন্য বিশাল অঙ্কের বাজেট ধরা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৮১,৫০০ কোটিরও বেশি টাকা এই প্রকল্পে খরচ করা হয়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের মজুরির জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ৬৫,৮৭৫ কোটি টাকা।
Advertisement
চলতি বছরে এপ্রিল মাসে কর্মসংস্থানের হার কিছুটা কম থাকলেও মে মাসে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মে মাসে প্রায় ৪৩ কোটি ব্যক্তি-দিন কাজ অনুমোদন করা হয়েছে, যা এপ্রিলের তুলনায় অনেক বেশি।
Advertisement
সরকার জানিয়েছে, মনরেগার মাধ্যমে কৃষি, জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে জল সংরক্ষণ প্রকল্পে জোর দেওয়ার ফলে গত দশকে গ্রামীণ জলসংকট অনেকটাই কমেছে। এছাড়া ‘অমৃত সরোবর’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশজুড়ে ৬৮ হাজারের বেশি জলাধার তৈরি হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু কর্মসংস্থানই দেয় না, পাশাপাশি গ্রামীণ উন্নয়নের ভিত্তিও মজবুত করে। নতুন প্রকল্প চালু হলে কর্মসংস্থানের দিন বাড়বে এবং মজুরিও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Advertisement



