• facebook
  • twitter
Wednesday, 29 April, 2026

এক্সিট পোলের দোলাচল, কখনও পদ্ম এগিয়ে তো কখনও ঘাসফুল

বাংলার সম্ভাব্য রায় ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

দৈনিক স্টেটসম্যান ডিজিটালের নিজস্ব গ্রাফিক্স চিত্র।

ভোট মিটতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে শুরু হয়েছে ভবিষ্যদ্বাণী। নীলবাড়ির লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা, অন্যদিকে বিজেপির প্রথমবার বাংলায় সরকার গড়ার লক্ষ্য— এই দুইয়ের টানাপোড়েনে জমে উঠেছে পরিস্থিতি।

ভোট-পরবর্তী একাধিক বুথফেরত সমীক্ষা সামনে আসতেই স্পষ্ট হয়েছে, চূড়ান্ত ফল নিয়ে রয়েছে বড়সড় অনিশ্চয়তা। বেশিরভাগ সমীক্ষায় বিজেপিকে এগিয়ে দেখানো হলেও, কিছু সমীক্ষায় তৃণমূলের পক্ষেই পাল্লা ভারী। ফলে সর্বত্রই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে।

Advertisement

২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৭টি আসন। ম্যাট্রিজের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন পেতে পারে। আর তৃণমূল পেতে পারে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন। চাণক্য স্ট্র্যাটেজির সমীক্ষাতেও বিজেপি ১৫০ থেকে ১৬০ আসনের মধ্যে থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। পি-মার্ক এবং প্রজা পোলের মতো সংস্থাগুলিও বিজেপির পক্ষেই রায়ের জোরালো পূর্বাভাস দিয়েছে। কোথাও বিজেপির সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ১৭৮ থেকে ২০৮ পর্যন্ত দেখানো হয়েছে, যা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনেকটাই উপরে।

Advertisement

তবে ভিন্ন ছবি দেখাচ্ছে পিপল্‌স পাল্‌স এবং জনমত পোল্‌স। এই দুই সমীক্ষায় তৃণমূলকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। পিপল্‌স পাল্‌স বলছে, তৃণমূল ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন পেতে পারে, যেখানে বিজেপি ৯৫ থেকে ১১০-এ সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। জনমত পোল্‌স আরও বড় ব্যবধানের কথা বলছে, যেখানে বলা হচ্ছে তৃণমূল ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন পেতে পারে।

পোল ডায়েরির সমীক্ষাও বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও ব্যবধান তুলনামূলক কম। সেখানে বিজেপি ১৪২ থেকে ১৭১টি আসন পেতে পারে, আর তৃণমূল ৯৯ থেকে ১২৭টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে। এক্সিট পোলের এই ভিন্নমুখী ফল রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি করেছে দোলাচল। তবে প্রায় সব সমীক্ষাতেই একটি বিষয় স্পষ্ট—বাম ও কংগ্রেসের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের আসন সংখ্যা শূন্য থেকে বড়জোর তিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করে ক্ষুদ্র ভোটের পার্থক্য এবং স্থানীয় সমীকরণ। তাই এক্সিট পোল যতই উত্তেজনা বাড়াক, বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে গণনার দিনেই। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার চাবিকাঠি কার হাতে যাবে, তা জানতে এখন অপেক্ষা শুধু ফল ঘোষণার।

Advertisement