ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীর ছোটবেলা থেকেই থাকে। কিন্তু সীমিত আসন, আর্থিক বাধা কিংবা মাঝারি মেধার কারণে সেই স্বপ্ন অনেক সময় থমকে যায়। নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ না পেয়ে হতাশায় ভোগেন বহু শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশে চিকিৎসাশিক্ষার মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণের পথ দেখাচ্ছে ‘এডুসলভ এডুটেক প্রাইভেট লিমিটেড’।
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা সংস্থার উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের বহু শিক্ষার্থী কিরগিস্তান, কাজাকিস্তান-সহ প্রায় ১০টি দেশে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ রাকেশ হোসেন জানান, তাঁদের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৩০০ জন শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে দেশে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী বিদেশে চিকিৎসাশিক্ষা গ্রহণ করছেন।
Advertisement
সম্প্রতি কিরগিস্তান থেকে পাশ করে আসা ৫০ জন চিকিৎসক, যারা বিদেশি মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট স্ক্রিনিং পরীক্ষায় সফল হয়েছেন, তাঁদের নিয়ে কলকাতায় এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নবীন চিকিৎসকেরা তাঁদের বিদেশে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। পাশাপাশি নতুন শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বক্তব্য রাখেন।
Advertisement
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ রফিকুল ইসলাম, রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের স্পেশাল সচিব আরশাদ হাসান ওয়ার্ষি, অধ্যাপক আইতুল্লা ফারুক প্রমুখ। কিরগিস্তানের ইন্টারন্যাশনাল হাইয়ার স্কুল অফ মেডিসিনের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এদিন আরশাদ হাসান ওয়ার্ষি বলেন, ‘তোমরা সত্যিই ভাগ্যবান যে ডাঃ রাকেশের মতো একজন মেন্টর পেয়েছো। এডুসলভ শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি পরিবার। তারা শুধু ডাক্তার তৈরি করে না, সমাজের মেরুদণ্ড গড়ে তোলে।’
বিদেশে পড়াশোনা করে ফেরা সুস্মিতা, সিরিন ও সবনম জানান, ‘মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করা সহজ ছিল না। কিন্তু এডুসলভের সহযোগিতায় কম খরচে কিরগিস্তান থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করতে পেরেছি। প্রথমবারেই লাইসেন্স পরীক্ষায় সফল হয়েছি।’
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ রাকেশ হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পাশে আমরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকি। বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে রেজিস্ট্রেশন পাওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সহায়তা করা হয়। অনেকেই ইতিমধ্যে রাজ্যে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন।’
দিনভর এই অনুষ্ঠান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার উৎস। আয়োজকদের মতে, চিকিৎসা শুধু পেশা নয়, এটি মানবতার প্রতি এক আজীবন অঙ্গীকার—এই ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করাই ছিল অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
Advertisement



