• facebook
  • twitter
Sunday, 26 April, 2026

প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই প্রয়াত

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অসামান্য কভারেজের জন্য তিনি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন

ভারতের প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ দেশ। অর্ধশতাব্দীজুড়ে উজ্জ্বল এক সৃষ্টিশীল জীবনের অবসান ঘটল। রবিবার, ২৬ এপ্রিল, তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, গত দু’বছর আগে তাঁর প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে, যা চিকিৎসার পর নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তী সময়ে ক্যানসার পাকস্থলীতে ছড়ালেও তাও সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।
তবে সম্প্রতি তা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং বয়সজনিত নানা সমস্যার জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যায়। স্ত্রী গুরমিত, পুত্র নিতিন এবং কন্যা লগন, অবনী ও পুরবাইকে রেখে গিয়েছেন তিনি।
১৯৪২ সালের ১৮ ডিসেম্বর পাকিস্তানের (তৎকালীন অবিভক্ত ভারত) পাঞ্জাব প্রদেশের ঝাং-এ জন্মগ্রহণ করেন রঘু রাই। পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করলেও ২৩ বছর বয়সে তাঁর আলোকচিত্রের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় দাদার হাত ধরেই। ১৯৬৬ সালে তিনি দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার দিল্লি অফিসে প্রধান আলোকচিত্রী হিসেবে যোগ দেন এবং সেখান থেকেই তাঁর পেশাদার যাত্রার সূচনা।
দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত তিনি ক্যামেরাবন্দি করেছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, তিব্বতের ধর্মগুরু দলাই লামা, শিবসেনা প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরে, চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ব্যক্তিত্বের ছবি ছাড়াও একাধিক ঐতিহাসিক ছবি তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে মাদার টেরিজার মতো আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের জীবনও তাঁর ছবিতে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
রঘু রাই কাজ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ও সাময়িকী যেমন সানডে এবং ইন্ডিয়া টুডে-র সঙ্গে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাঁর কাজ সমানভাবে সমাদৃত হয়েছে— টাইম, লাইফ, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এবং দ্য নিউ ইয়র্কার-এর মতো খ্যাতনামা প্রকাশনায় তাঁর আলোকচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তিনবার ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতার বিচারক এবং দু’বার ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার বিচারকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অসামান্য কভারেজের জন্য তিনি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন। এছাড়াও তাঁর ‘হিউম্যান ম্যানেজমেন্ট অফ ওয়াইল্ড লাইফ অফ ইন্ডিয়া’ শীর্ষক ফটো-প্রবন্ধ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে প্রকাশিত হয়েছিল এবং তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তিনি ‘ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পান। ২০০৯ সালে ফরাসি সরকার তাঁকে ‘অফিসার অফ দ্য অর্ডার অফ আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’ সম্মানে ভূষিত করে।
রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লির লোধি রোড শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। রঘু রাইয়ের প্রয়াণে ভারতীয় আলোকচিত্র জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল।

Advertisement

Advertisement