• facebook
  • twitter
Thursday, 29 January, 2026

নেপাল সীমান্তে ঐতিহাসিক রেলসেতু উদ্বোধন করলেন মােদি

কল্পতরু হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি । কারণ, সামনেই বিহার বিধানসভা নির্বাচন। শুক্রবার বিহারের কোশি রেল মহাসেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। (Photo: Twitter/@BJP4India)

ফের কল্পতরু হল কেন্দ্রীয় সরকার। আর একধাপ এগিয়ে বললে কল্পতরু হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি। কারণ, সামনেই বিহার বিধানসভা নির্বাচন। শুক্রবার বিহারের কোশি রেল মহাসেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি। শুধু সেতু উদ্বোধনই নয়, বিহারের আরও অন্যান্য রেল প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে বলে এদিন মােদি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে উন্নয়নের ধীর গতির জন্য বিগত ইউপিএ সরকারকেও দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী। 

এই সেতুটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়। গত কয়েকদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী বিহারের উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করছেন। তারই অঙ্গ হিসেবে এদিন কোশি রেল মহাসেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সামনেই বিহার বিধানসভা নির্বাচন। সেকথা মাথায় রেখেই উন্নয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমেই বিহারের মানুষের মন জয় করার জন্য মােদি ক্রমশ মরিয়া হয়ে উঠছেন। 

Advertisement

এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মােদি তাঁর বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, নতুন ইতিহাস তৈরি হল বিহারের বুকে। রেল সংযােগ এবং বিভিন্ন প্রকল্প মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে বিহারের বুকে। আগামী দিনে এই প্রকল্পগুলিতে নতুন করে অনেক কর্মসংস্থানও হবে। উল্লেখ্য, কোশি রেল মহাসেতুর দৈর্ঘ্য ১.৯ কিলােমিটার এবং এই প্রকল্পটির জন্য ৫১৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই সেতুর উদ্বোধনের ফলে ভারত নেপাল সীমান্তে যােগাযােগ আরও মসৃণ হবে।

Advertisement

এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রেল সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, এই সেতুর কাজ শেষ হলে বিহারের রেলপথ আরও মসৃণ হবে। বাংলা ও পশ্চিম ভারতের মধ্যে যােগাযােগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। এদিন এই সেতু উদ্বোধনের সময় পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালােচনা করেন মােদি। সেই সময় এই রেল সেতুর বিস্তার করা হয়নি বলে তিনি অভিযােগ করেন। 

২০০৩-২০০৪ সালে এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু তারপর থেকে এই প্রকল্পের কাজ আর এগােয়নি। উল্টে লকডাউনের সময় এই প্রকল্পে গতি আসে। কাজ হারিয়ে বাড়ি ফেরা বহু পরিযায়ী শ্রমিক এই প্রকল্পে কাজ পান। দ্রুত কাজও শেষ হয়। যদিও বিরােধীদের কটাক্ষ বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে। তাই দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হল। বিহার-নেপাল সীমান্তের ক্ষেত্রে এই সেতুর ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি বিহারে সাতটি বড় শহর পরিকাঠামাে প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেছেন নরেন্দ্র মােদি। 

কোশি রেল মহাসেতু প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলহািরী বাজপেয়ীর স্বপ্নের প্রকল্প ছিল। বাজপেয়িজী যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সেই সময় রেলমন্ত্রী ছিলেন নীতীশ কুমার। কিন্তু বাজপেয়ী সরকারের পর এই প্রকল্পের গতি স্লথ হয়ে আসে। মিথিলা এবং কোশির মানুষের সমস্যার সমাধানে এই সেতু কাজ করবে, এই স্বপ্নকে সামনে রেখেই ২০০৩ সালে রেলমন্ত্রী নীতীশ কুমার প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারপর আর এই প্রকল্পে গতি সঞ্চার করেনি ইউপিএ সরকার। 

গত ৬ বছর ধরে ভারতীয় রেলকে একটি অন্য মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সেই সঙ্গে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এই প্রকল্পের বাস্তবায়নই তার অঙ্গ। ট্রেনের গতি বাড়ানাে হয়েছে, বন্দে ভারত প্রকল্পও আত্মবিশ্বাস এবং সৌহার্দের সেতুবন্ধনে কাজ করবে। রেলের আধুনিকরণের মাধ্যমে বিহারের উন্নয়ন নতুন দিশা পাবে। 

মাধেপুরাতে একটি ইলেকট্রিক লােকো ফ্যাক্টরি তৈরি করা হচ্ছে ভারত নির্মাণের অঙ্গ হিসেবে। এবং মারহাউরাতে একটি ডিজেল লােকো ফ্যাক্টরি হবে। দুটি প্রকল্পের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। বিহার গর্ব করতে পারে এই ভেবে যে, সবচেয়ে ক্ষমতা সম্পন্ন ইলেকট্রিক লােকোমেটিভ নির্মাণ এরাজ্যেই হবে। ১২ হাজারা হর্সপাওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে এই প্রকল্প থেকে। নতুন নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে বিহারের মানচিত্রে কি ধরনের পরিবর্তন আসবে সেই স্বপ্ন এদিন ফেরি করেছেন মােদি।

Advertisement