• facebook
  • twitter
Wednesday, 22 April, 2026

কোনও আধিকারিকের অধিকার লঙ্ঘন করা হয়নি, আইপ্যাক মামলায় রাজ্যের প্রশ্ন

মেনকা গুরুস্বামীর অভিযোগ, ইডি এই মামলায় এমন কিছু আইনি যুক্তি তুলে ধরছে, যা আগে কখনও আদালতে শোনা যায়নি

সুপ্রিম কোর্ট (File Photo: IANS)

বঙ্গে ভোটের আবহের মধ্যেই বুধবার  সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। দুই পর্বে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষে জোর সওয়াল করেন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনায় কোনও সরকারি আধিকারিকের অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি এবং গোটা বিষয়টিকে অযথা বড় করে দেখানো হচ্ছে।

শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকে ইডি-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। মেনকা গুরুস্বামীর অভিযোগ, ইডি এই মামলায় এমন কিছু আইনি যুক্তি তুলে ধরছে, যা আগে কখনও আদালতে শোনা যায়নি। তাঁর মতে, তদন্তকারী সংস্থার উপস্থাপিত পরিস্থিতি বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এতে কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নেই।

Advertisement

একইসঙ্গে, সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা  প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের আইনজীবীরা। কপিল সিব্বলের পাশাপাশি মেনকা গুরুস্বামীও যুক্তি দেন যে, এই ধারা মূলত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য প্রযোজ্য, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমনভাবে ব্যবহার করার সুযোগ সীমিত। তাঁদের বক্তব্য, এই মামলায় ৩২ নম্বর ধারা প্রয়োগের যথার্থতা নেই।

Advertisement

আর এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই এদিন ইডির তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ইডির তদন্তে যখন মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেন, তখন তা কেন্দ্র বনাম রাজ্যের বিবাদ হতে পারে না। শুধু তাই নয়, যেভাবে তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে তা নিয়েও এদিন বিস্ময় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, এক্ষেত্রে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হচ্ছে।

তবে এদিনের মতো শুনানি শেষ হলেও, মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ফের এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সব মিলিয়ে, এই মামলাকে ‘ব্যতিক্রমী’ হিসেবে উল্লেখ করে আদালত বিষয়টির গুরুত্বের উপর বিশেষ জোর দিয়েছে।

 

Advertisement