মীনাক্ষী ভট্টাচার্য
দিল্লি, ২০ এপ্রিল— ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনের জেরে ফের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সোমবার তেলের দাম ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও, যেখানে তেলের দরের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে।
Advertisement
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৭.২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৫.৩ শতাংশ বেড়ে ৯৫.১৬ ডলার হয়েছে।
Advertisement
এই পরিস্থিতির জন্য ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থানকেই দায়ী করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলিতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ এখনও বহাল রয়েছে। ফলে পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তবে এর আগেই পরিস্থিতি খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছিল। ইরান ঘোষণা করেছিল যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। সেই সময় তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। বিশেষ করে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ঘোষণার পর তেলের দামে বড় পতন দেখা যায়।
কিন্তু নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ আটক করেছে বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের তরফে এই পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুদের মতো আচরণ’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে এবং পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, যুদ্ধ সংক্রান্ত কোনও চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচও বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। এখন দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় কি না সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
Advertisement



