মহারাষ্ট্রে পরপর দুটি ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে নাসিকের একটি বেসরকারি বিপিও কেন্দ্রে মহিলা কর্মীর যৌন হেনস্থার অভিযোগ, অন্যদিকে নাগপুরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিরুদ্ধে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ—এই দুই ঘটনাকে ঘিরে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
নাসিকের ঘটনায় এক মহিলা কর্মী অভিযোগ করেছেন, তাঁর সহকর্মী রাজা মেমন দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে অশালীন আচরণ ও মানসিক নির্যাতনের শিকার করেছেন। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে এই হেনস্থা চলছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। বিয়ের পরেও এই আচরণ বন্ধ হয়নি বলেও অভিযোগ। বিষয়টি তিনি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপক, দলনেতা ও মানবসম্পদ দপ্তরকে জানালেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
Advertisement
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মানবসম্পদ বিভাগের এক প্রতিনিধি তাঁকে উল্টে কটূক্তি করেন এবং বিষয়টি ‘এড়িয়ে যেতে’ বলেন। এতে করে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নারী সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
Advertisement
অন্যদিকে নাগপুরে ‘ফিকার ফাউন্ডেশন’ ও ‘পড়ে হাম, পড়ায় হাম’ নামে দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিরুদ্ধে ধর্মান্তরকরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, সেখানে কর্মরত মহিলাদের ওপর নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতি মানার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল এবং মানসিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এই ঘটনায় রিয়াজ কাজী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মানকাপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, সংস্থার কর্মীদের উপর নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করা হত এবং তাঁদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হত। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে সন্ত্রাসবিরোধী দপ্তরও যুক্ত হয়েছে। সংস্থার আর্থিক লেনদেন ও এর সঙ্গে অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নাসিকের ঘটনাতেও অপমান ও মানসিক চাপে রাখার অভিযোগ রয়েছে। ফলে দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
একই রাজ্যে পরপর এমন দুটি ঘটনায় কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনের দাবি, সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Advertisement



