ভারতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ তৈরি হলেও, সেই সম্পদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে হস্তান্তরের বিষয়ে এখনও পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। ২০২৬ সাল নাগাদ দেশে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ২২৯ জন৷ যা বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ। পাশাপাশি, ২০২৪ সালের হিসেবে দেশে ৮৫ হাজারেরও বেশি উচ্চ-সম্পদশালী ব্যক্তি আছেন। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের মধ্যে মিলিয়নিয়ার পরিবারের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৮.৭ লক্ষে পৌঁছেছে।
ভারতের অর্থনীতিতে পারিবারিক ব্যবসার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশের জিডিপির ৭৫ শতাংশেরও বেশি এই ব্যবসাগুলোর মাধ্যমে আসে, যা ২০৪৭ সালের মধ্যে ৮০-৮৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান। ফলে আগামী দশকে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বিপুল সম্পদ হস্তান্তর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Advertisement
তবে এই বিশাল পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি এখনও যথেষ্ট নয়। ফোর্বস (২০২৬), নাইট ফ্র্যাঙ্ক সম্পদ প্রতিবেদন (২০২৫), হুরুন ইন্ডিয়া সম্পদ প্রতিবেদন (২০২৫), ম্যাককিনজি অ্যান্ড কোম্পানি, পিডব্লিউসি গ্লোবাল পারিবারিক ব্যবসা সমীক্ষা (২০২৬)-সহ একাধিক সমীক্ষা বলছে ৩৬ শতাংশ ভারতীয় পারিবারিক ব্যবসায় কোনও স্পষ্ট উত্তরাধিকার পরিকল্পনা নেই, যা বিশ্ব গড়ের চেয়েও বেশি। যাদের পরিকল্পনা আছে, তাদের মধ্যেও পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তন পরিকল্পিত নয়, বরং হঠাৎ পরিস্থিতির কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়— যেমন অসুস্থতা, অনুপস্থিতি বা পারিবারিক বিরোধ।
সমস্যার মূল কারণ হিসেবে নেক্সএজ ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা এবং অর্থৈনৈতিক বিশেষজ্ঞ নিশিত দোশি বলেন, অনেক পরিবার সম্পদ জমানো বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে হস্তান্তরের বিষয়টির গুরুত্ব বোঝে না বা সময়মতো পদক্ষেপ নেয় না। অন্যদিকে, নতুন প্রজন্ম আন্তর্জাতিকভাবে বেশি সচেতন হলেও, মাত্র ৭ শতাংশ উত্তরাধিকারী পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী।
Advertisement
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে, যেখানে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে, সেখানে দুর্বল পরিকল্পনা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সম্পদ সৃষ্টি নয়, তার সুষ্ঠু পরিচালনা ও উত্তরাধিকার পরিকল্পনাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে তারাই সফল হবে, যারা আগেভাগে এই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
Advertisement



