নেপালের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জেল থেকে মুক্তি পেলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখাক। প্রায় ১৩ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর তাঁদের মুক্তি মিলল।
গত ২৮ মার্চ তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এক হত্যাযোগ্য অবহেলার মামলায়, যা গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হওয়া জেনারেশন জেড আন্দোলন দমনের সঙ্গে যুক্ত। ওই আন্দোলনে একাধিক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছিল, যা ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
Advertisement
পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা আবেদন নিয়ে শুনানি করে নেপালের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দেয়, তদন্ত সম্পূর্ণ করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে, নতুবা অভিযুক্তদের মুক্তি দিতে হবে। কাঠমান্ডু জেলা আদালতের দেওয়া অতিরিক্ত পাঁচ দিনের হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই এই নির্দেশ কার্যকর হয়।
Advertisement
মুক্তির পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলি অভিযোগ করেন, তাঁকে বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, ‘সরকার পক্ষপাতদুষ্টভাবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল এবং যথেষ্ট প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।’
তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এখনও কয়েকদিন হাসপাতালে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
এই গ্রেপ্তারির পেছনে ছিল প্রাক্তন বিশেষ আদালতের প্রধান গৌরি বাহাদুর কার্কি-র নেতৃত্বাধীন একটি তদন্ত কমিশনের সুপারিশ। ওই কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ওলি, লেখাক এবং প্রাক্তন পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুংয়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগ আনার কথা বলে।
আইন অনুযায়ী, এই ধারায় দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এই ঘটনার পর নেপালের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই নির্দেশ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্নকে আরও জোরদার করবে।
Advertisement



