• facebook
  • twitter
Friday, 29 May, 2026

বেড়ে গেল গোল্ড লোনের পরিমাণ

সোনার বিনিময়ে ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগামী কয়েক মাসেও সোনার বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।

গত অর্থবর্ষ থেকে সোনার দামে নজিরবিহীন উত্থান দেখা গিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোনার দাম প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে এক গ্রাম সোনার মূল্য পৌঁছে যায় প্রায় ১৮ হাজার টাকায়। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে গোল্ড লোন সংস্থা এবং বিভিন্ন ব্যাংক। কারণ সোনার দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোনার বিনিময়ে ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

একটি সূত্রের দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে গোল্ড লোন সংস্থাগুলির ব্যবসা ৫০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং দ্রুত নগদের প্রয়োজন মেটাতে বহু মানুষ এখন গোল্ড লোনের উপর নির্ভর করছেন।

Advertisement

যদিও ২৯ জানুয়ারির পর থেকে সোনার দাম কিছুটা কমতে শুরু করে, তবু গোল্ড লোন নেওয়ার প্রবণতায় ভাটা পড়েনি। বরং ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে। ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো ‘এক্সপেরিয়ান’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকেই গোল্ড লোনের পরিমাণ ১১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

Advertisement

এই বিপুল বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক সংস্থা বা এনবিএফসি-গুলি। গোল্ড লোন বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব ২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্য দিকে, প্রচলিত ব্যাংকগুলির গোল্ড লোন ব্যবসা তুলনামূলক ধাক্কা খেয়েছে। তাদের মার্কেট শেয়ার ৪১ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যক্তিগত ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ড নির্ভর ঋণ ব্যবস্থাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে গোল্ড লোনের চাহিদা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ঋণ অনুমোদন, কম কাগজপত্র এবং সোনার উচ্চ মূল্য— এই তিন কারণেই গোল্ড লোন এখন সাধারণ মানুষের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় আর্থিক বিকল্প হয়ে উঠেছে।

অর্থনৈতিক মহলের মতে, আগামী কয়েক মাসেও সোনার বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। ফলে গোল্ড লোনের বাজার আরও বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Advertisement