পুরোদমে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই উত্তর দিনাজপুরের কুলিক পক্ষীনিবাসে ভিড় জমাতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখিরা। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির আগাম আগমন ঘিরে ইতিমধ্যেই উৎসাহ ছড়িয়েছে পাখিপ্রেমী এবং পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে। মূলত ইগ্রেটস প্রজাতির পাখিদের উপস্থিতি এখন থেকেই চোখে পড়ছে কুলিক নদীর পাড়ে।
বনদপ্তরের মতে, এ বার তুলনামূলক অনেক আগেই পরিযায়ী পাখিরা আসতে শুরু করেছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত। রায়গঞ্জের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (ডিএফও) ভূপেন বিশ্বকর্মা জানিয়েছেন, কুলিক পক্ষীনিবাসের পরিবেশ আগের তুলনায় আরও উন্নত করা হয়েছে। বিশেষ করে ক্যানেলে পর্যাপ্ত জল ধরে রাখা, পাখিদের খাদ্যের নিয়মিত জোগান এবং আবাসস্থলের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পাখিরা দ্রুত ফিরে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
ডিএফও-র কথায়, “পুরোদমে বর্ষা শুরুর আগেই পাখিদের আগমন শুরু হওয়া অত্যন্ত উৎসাহজনক। বনদপ্তর পক্ষীনিবাসের পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ নজর দিচ্ছে।” তাঁর মতে, আবহাওয়া এবং বাস্তুতন্ত্র অনুকূল থাকায় এ বছর পাখির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
Advertisement
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ইগ্রেটস প্রজাতির পাখি। তবে এখনও পর্যন্ত ওপেন বিল স্টর্ক, নাইট হেরন কিংবা কর্মোরেন্ট প্রজাতির পাখিদের দেখা মেলেনি। বনদপ্তরের অনুমান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ওই প্রজাতির পাখিরাও কুলিকে আসতে শুরু করবে।
কুলিক পক্ষীনিবাস এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর বর্ষাকালে দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পাখি এখানে আসে ডিম পাড়া ও বংশবিস্তারের জন্য। ফলে বর্ষার আগেই পাখিদের উপস্থিতি পরিবেশের পক্ষে শুভ লক্ষণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিবেশপ্রেমীদের একাংশের মতে, কুলিকে পাখিদের আগাম আগমন প্রমাণ করছে যে পক্ষীনিবাসের পরিবেশ এখনও তাদের জন্য নিরাপদ এবং অনুকূল রয়েছে। আগামী দিনে পর্যটকদের ভিড়ও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement



