• facebook
  • twitter
Wednesday, 8 April, 2026

আসামে ‘জেন জি’ ফ্যাক্টর—তরুণী কুংকি চৌধুরীকে ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

আসাম জাতীয় পরিষদের প্রার্থী হিসেবে গুয়াহাটি সেন্ট্রাল কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ছেন কুংকি

নেপাল ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলে ‘জেন জি’-র প্রভাব ইতিমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে। এবার জেন জি প্রবণতার ছাপ দেখা যাচ্ছে ভারতের রাজনীতিতেও। আসাম বিধানসভা ভোটের আগে ২৭ বছরের তরুণী কুংকি চৌধুরীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।

আসাম জাতীয় পরিষদের প্রার্থী হিসেবে গুয়াহাটি সেন্ট্রাল কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ছেন কুংকি। তাঁর প্রতিপক্ষ বিজেপির অভিজ্ঞ নেতা বিজয় কুমার গুপ্ত। গত এক দশক ধরে এই কেন্দ্র এনডিএ-র দখলে থাকলেও, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে কুংকি চৌধুরী চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন শাসক শিবিরকে।

নিজের প্রচারে কুংকি সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে নিশানা করে । তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং বিতর্ক উসকে দিয়ে আসলে শাসক দলই তাঁকে আরও বেশি প্রচারের আলোয় এনে দিচ্ছে।

Advertisement

শিক্ষাবিদ সুজাতা গুরুং চৌধুরীর কন্যা কুংকি। আসামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে মুম্বাই এবং পরে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে স্বল্প সময়ের জন্য পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত থাকার পর সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

Advertisement

মাত্র ১৫ দিনের প্রচারেই তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগের কাজ করেছেন এবং জল জমার সমস্যা, বেকারত্ব, নিরাপত্তা ও শিক্ষার মতো ইস্যুগুলি নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই অল্প সময়েই সমাজমাধ্যমে তরুণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি।

তবে তাঁর উত্থান ঘিরে বিতর্কও কম নয়। তাঁর মাকে নিয়ে একটি বিতর্কিত ভিডিও সামনে এনে কড়া সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এই ভিডিওটি শেয়ার করেন মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা। যদিও কুংকি দাবি করেছেন, ভিডিওটি ডিপফেক এবং তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। বিষয়টি নিয়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থও হয়েছেন।

এদিকে নির্বাচনের আগে গুয়াহাটি সেন্ট্রাল কেন্দ্রে প্রচারে নেমেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্। বিজেপি এই কেন্দ্রে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নতুন মুখ হিসেবে কুনকির উত্থান উল্লেখযোগ্য।

এই কেন্দ্রে মোট ভোটার প্রায় ১.৯৩ লক্ষ, যার মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ বাঙালি এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গোর্খা ভোটার রয়েছেন। তাঁদের একাংশের সমর্থন কুনকির দিকে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত ফল যাই হোক, বিশেষজ্ঞদের মতে কুংকি চৌধুরী ইতিমধ্যেই আসামের রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন এই ‘জেন জি’ নেত্রী।

Advertisement