ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনয়নপত্র জমা দিলেন। বুধবার সকাল প্রায় পৌনে ১১টা নাগাদ তিনি নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সমর্থকদের বিশাল মিছিলের সঙ্গে পায়ে হেঁটে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছন। তাঁর এই পদযাত্রা ঘিরে এলাকাজুড়ে উৎসাহ ও উদ্দীপনার আবহ তৈরি হয়। সঙ্গে ছিলেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা—কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, পরিবারের সদস্য স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নেতা সন্দীপ বক্সীসহ আরও অনেকে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুরের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর জীবন, আন্দোলন এবং সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এই এলাকার সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ছোটবেলা থেকে ভবানীপুরেই তাঁর বেড়ে ওঠা—তাই এলাকার মানুষের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের সবকটি কেন্দ্রেই তৃণমূল বা তৃণমূল-সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ের আহ্বান জানান।
Advertisement
ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়ার প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার পর বহু নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত হলেও এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তিনি জানান, যাঁদের নাম এখনও বিবেচনাধীন, তাঁদেরও দ্রুত তালিকাভুক্ত করা উচিত এবং প্রয়োজনে তিনি আবার আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
Advertisement
সকালের শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় উপচে পড়ে। পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করে ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাত নেড়ে তাঁকে স্বাগত জানান, মহিলারা শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে পরিবেশ মুখর করে তোলেন। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয় গোটা এলাকা।
মনোনয়নপত্রে ভবানীপুরের বহুত্ববাদী চরিত্রের প্রতিফলন ঘটাতে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের প্রস্তাবক হিসেবে রাখা হয়েছে, যা এই কেন্দ্রের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাকে আরও জোরালো করে।
Advertisement



