ভারত ও কানাডার মধ্যে প্রস্তাবিত বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। দুই দেশের অর্থনীতির পরিপূরক চরিত্রই এই চুক্তির সবচেয়ে বড় শক্তি বলে উঠে এসেছে এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল ভোক্তা বাজার, পরিষেবা খাতে দক্ষতা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগের সঙ্গে কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নত গবেষণা এবং পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা একে অপরকে সম্পূর্ণ করে। এই সমন্বয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি করছে।
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলা মজবুত করা এবং নতুন উদ্ভাবনভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
Advertisement
বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এর মধ্যে পণ্য বাণিজ্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন এবং পরিষেবা বাণিজ্য প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার।
ভারত থেকে কানাডায় রপ্তানি আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হয়েছে। ওষুধ, বস্ত্র এবং রত্ন-গহনার মতো প্রচলিত ক্ষেত্রের পাশাপাশি এখন যন্ত্রাংশ, প্রকৌশল পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, রাসায়নিক এবং গাড়ি শিল্পেও রপ্তানি বাড়ছে।
এই চুক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হতে পারে জ্বালানি সহযোগিতা। কানাডার কাছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ প্রচুর জ্বালানি সম্পদ রয়েছে, যা ভারতের ক্রমবর্ধমান শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।
এছাড়াও, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তিতে কানাডার দক্ষতা এবং ভারতের বৃহৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প একত্রে কাজ করলে যৌথ বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাবনার তুলনায় কম ব্যবহৃত ভারত-কানাডা সম্পর্ক এই চুক্তির মাধ্যমে নতুন গতি পেতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
Advertisement



