• facebook
  • twitter
Tuesday, 7 April, 2026

ভারতকে অনুসরণ, জ্বালানির দামে স্বস্তি আনতে কর কমাল নেপাল

ভারতও আন্তর্জাতিক বাজারের চাপে জ্বালানি কর কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যা নেপালের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দামের চাপে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নেপাল সরকার। পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের উপর কর আংশিক কমানোর ঘোষণা করেছে তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মতো পদক্ষেপ অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিবেশী দেশটি।

জানা গিয়েছে, নেপাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে সম্মতি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন নেপালের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিভা রাওয়াল। তাঁর কথায়, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের উপর আরোপিত শুল্ক ও পরিকাঠামো করের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে। খুব শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, বর্তমানে নেপালে প্রতি লিটার পেট্রোলে নির্দিষ্ট শুল্ক ও কর রয়েছে। পাশাপাশি ডিজেলের ক্ষেত্রেও করের চাপ যথেষ্ট। এর সঙ্গে অতিরিক্তভাবে মূল্য সংযোজন কর, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর, দূষণ কর এবং সবুজ কর আরোপ করা হয়। ফলে জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল।

Advertisement

বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার পেছনে বড় কারণ পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা। বিশেষ করে ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। সেখানে সমস্যা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পরিবহণ খরচে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে। এশিয়ার দেশগুলির উপর এই চাপ বেশি পড়েছে। কারণ তারা মূলত আমদানি করা তেলের উপর নির্ভরশীল।

নেপাল সরাসরি অন্য দেশ থেকে তেল আমদানি না করলেও ভারতের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। অন্যদিকে, ভারতও আন্তর্জাতিক বাজারের চাপে জ্বালানি কর কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যা নেপালের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কার্যত জ্বালানির দামের চাপে সাধারণ মানুষের আর্থিক বোঝা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে বলে আশাবাদী সদ্য গঠিত নেপাল সরকার।

Advertisement